1. savarbarta247@gmail.com : Savar Barta24 : Savar Barta24
  2. admin@savarbarta24.com : savarbarta :
দুর্নীতির রাহুগ্রাসে ডুবতে বসেছে জনস্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট - সাভার বার্তা
শুক্রবার, ১৬ এপ্রিল ২০২১, ০৭:৪০ পূর্বাহ্ন
শীর্ষ বার্তা
সাভারে বনপুকুরে ফুডপান্ডা কর্মীকে পিটুনির ভিডিও ভাইরাল! ‘সাংবাদিকদের মুভমেন্ট পাস লাগবে না’ তবু ২ সংবাদকর্মী লাঞ্ছিত করোনা মোকাবিলায় বাংলাদেশকে ১০৪ কোটি মার্কিন ডলার দিচ্ছে বিশ্বব্যাংক করোনা নেগেটিভ হওয়ার ২৮ দিন পরই প্রতিরোধী টিকা নেয়া যাবে সাভারের রাজাশনে ব্যবসায়ীর বাড়ীতে দূর্ধর্ষ ডাকাতি, ১২ লাখ টাকার মালামাল লুট সাভারে সন্ত্রাসী হামলার প্রতিবাদে বনগাঁও ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে সংবাদ সন্মেলন লকডাউন উপেক্ষিত প্রথম দিনেই এপ্রিলে মাসজুড়ে ইলিশ ধরা নিষিদ্ধ করলেও ইলিশে বাজার সয়লাব! কক্সবাজারে পর্যটন সকল স্পট ১৪ এপ্রিল পর্যন্ত বন্ধ ঘোষণা সাভারে কম্বাইন হারভেস্টার কৃষকদের কৃষিযন্ত্র হস্তান্তর করলেন সাভার উপজেলা চেয়ারম্যান

আজকের দিন-তারিখ

  • শুক্রবার (সকাল ৭:৪০)
  • ১৬ই এপ্রিল, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ
  • ৩রা রমজান, ১৪৪২ হিজরি
  • ৩রা বৈশাখ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ (গ্রীষ্মকাল)

দুর্নীতির রাহুগ্রাসে ডুবতে বসেছে জনস্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট

Reporter Name
  • Update Time : রবিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২১

কামাল হোসেনঃ ‘আমি ও আমার দপ্তর দুর্নীতিমুক্ত-মহাপরিচালক’ এইমর্মে সাইনবোর্ড আর স্টিকার টানিয়েই জনস্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটকে অনিয়ম, দুর্নীতি আর লুটপাটের আখড়াস্থলে পরিনত করা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানের মহাপরিচালক ও তার ঘনিষ্ঠ সহযোগিরা মুখে মুখে দুর্নীতিমুক্ত স্লোগান তুললেও লুটপাটের জন্য হাতখানা বাড়িয়ে দিতে দ্বিধা করছেন না মোটেও। দিন দিনই দুর্নীতির রাহুগ্রাসে গোটা প্রতিষ্ঠানটি যেন ডুবে যেতে বসেছে।

দেশে সর্বোচ্চ বরাদ্দ স্বাস্থ্যখাতেরই অন্যতম ইউনিট জনস্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট সরকারি অর্থের দেদারছে অপচয় ও লুটপাটেও শীর্ষ রেকর্ড গড়তে যাচ্ছে। এরইমধ্যে দুদকের অনুসন্ধানে শুধু জনস্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটেই অর্ধ শতাধিক ‘লুটেরা আফজালের’ সন্ধান পেয়েছে। অবিলম্বে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য দুদক অধিদপ্তরের প্রতি সতর্কতা বার্তা পর্যন্ত পাঠায়। কিন্তু কিছুতেই কিছু হচ্ছে না, টেনে ধরা যাচ্ছে না দুর্নীতির লাগাম।

দুদকের তালিকায় শীর্ষ দুর্নীতিবাজদের মধ্যে জনস্বাস্থ্য ইন্সটিটিউটের হিসাবরক্ষক মুহাম্মদ মাহবুবুর রহমানের নামও উঠে এসেছে। জনস্বাস্থ্য ইন্সটিটিউটে ২৯টি শাখা রয়েছে। সম্প্রতি অধিদপ্তর-সংশ্লিষ্ট থেকে অভিযুক্ত মাহবুবের দুর্নীতি বিষয়ক যে তথ্য-উপাত্ত হাতে আসে সে তথ্যমতে প্রতিষঠানের একাধিক ব্যক্তিবর্গ থেকে জানা যায়, আলোচিত হিসাবরক্ষক মাহবুবুর রহমান উক্ত প্রতিষ্ঠানের কতিপয় কর্মকর্তা ও ঠিকাদারদের নিয়ে একটি সিন্ডিকেট গঠন করে দীর্ঘদিন ধরেই দুর্নীতি করে যাচ্ছেন। তার এই সিন্ডিকেটে রয়েছেন একাউন্ট অফিসার, ক্যাশ সরকার, স্টোর অফিসার এবং একাধিক সরবরাহকারী ও ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান। উল্লেখিতদের নিয়ে গঠিত সিন্ডিকেটটি নিজেরাই চাহিদাপত্র তৈরী করে স্ব-সৃষ্ট সেই চাহিদাপত্রে পরিচালকের স্বাক্ষর জাল করেন।
সিন্ডিকেটের নিজস্ব কারিশমায় গত দুই অর্থবছরে দৃশ্যমান কোনো টেন্ডার হয়নি। শুধুমাত্র কোটেশন আর ক্যাশপার্সেসের মাধ্যমে কেনাকাটা করা হয়েছে কোটি কোটি টাকার মালামাল। সূত্র মতে, গত দুই বছরে এই অনৈতিক প্রক্রিয়ায় প্রয়োজনীয় ও অপ্রয়োজনীয় মালামাল কেনাকাটা করা হয়েছে কয়েক কোটি টাকার। মালামাল কেনাকাটা দেখিয়ে এর সিংহভাগ টাকাই আত্মসাৎ করা হয়েছে। যদিও প্রকিউরমেন্ট ২০০৬/২০০৮ অনুযায়ী বছরে ৫ লক্ষ টাকার বেশী ক্যাশপার্সেস করা আইনসিদ্ধ নয়। কিন্তু এই নিয়মের তোয়াক্কা না করে সিন্ডিকেটটি বিশাল অংকের টাকার মালামাল ক্রয় দেখিয়ে আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়েছে। নিয়ম অনুসারে বছরে ঊর্ধে ২০ লক্ষ টাকার কোটেশন করা গেলেও সেখানে করা হয়েছে ১৫ কোটি টাকার। এক্ষেত্রে বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাৎ করে ওই সিন্ডিকেটটি। বড় অনিয়মের ঘটনা ব্ল্যাকব্যাগ শাখায় ঘটেছে গত ১৫ মে। একটি পুরাতন মেশিন ক্রয় দেখানো হয়েছে ১৪ কোটি ৪৩ লক্ষ টাকায়। কম দামের পুরাতন মেশিনটি রং করে তা সরবরাহ করা হয়, যা প্রকৃতপক্ষে ক্রয় করা হয়েছে মাত্র ১ কোটি ২০ লক্ষ টাকায়। দেয়াল ভেঙ্গে মেশিনটি নির্দিষ্টস্থানে স্থাপন করা হয়েছে। এক্ষেত্রে ১৩ কোটি টাকার ঊর্ধে আত্মসাতের ঘটনা ঘটেছে। এর পেছনে মূল ভূমিকা ছিলো উক্ত মাহবুবের। সম্পূর্ণ অনৈতিকতার আশ্রয় নিয়ে ৪২ কোটি টাকার কেনাকাটা দেখানো হয়েছে। সিন্ডিকেটটি এতই শক্তিশালী যে, অন্যরা তাদেরকে ভয় করে চলেন। অভিযোগ রয়েছে, জনস্বাস্থ্য ইন্সটিটিউট কেন্দ্রিক একটি স্থানীয় সন্ত্রাসী বাহিনী রয়েছে। তারা গোটা জনস্বাস্থ্য অধিদপ্তর নিয়ন্ত্রণ করে। আলোচিত সিন্ডিকেটটি এই সন্ত্রাসী বাহিনীটিকে লালন করেন বলে জানা যায়। ফলে অনেক সৎ কর্মকর্তা অনেকটা অসহায় অবস্থায় দায়িত্ব পালন করছেন।
জনস্বাস্থ্য ইন্সটিটিউটের পূর্বেকার পরিচালক ডাঃ আনিসুর রহমান দুর্নীতিপরায়ণ কর্মকতা হিসেবে বহুল আলোচিত ছিলেন। এতদিন তারই সুদৃষ্টিতে ছিলেন দুর্নীতিবাজ হিসাবরক্ষক মাহবুব। সাবেক পরিচালকের যোগসাজশে কোনো মালামাল না কিনে ক্রয় প্রক্রিয়ার প্রকিউর নিয়ম-নীতি না মেনে ২৫ হাজার টাকা করে ক্যাশ পার্সেস দেখিয়ে বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাৎ করেছেন তিনি। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে, তিনি ৪র্থ শ্রেণী কর্মচারীর পোশাকের বাবদ বিপুল পরিমাণ টাকা পকেটে ভরেছেন। এ নিয়ে উক্ত ইন্সটিটিউট ক্যাম্পাসে সে সময় মিছিল হয়। আলোচিত মাহবুবের বিরুদ্ধে তার লালিত পেটোয়া বাহিনীকে ৪র্থ শ্রেণীর বিক্ষুব্ধ কর্মচারীদের ওপর লেলিয়ে দেয়ার অভিযোগ উঠেছিলো।

দুর্নীতিবাজ হিসাবরক্ষক মাহবুব মেশিনারীজ মেরামত, আসবাবপত্র কেনা-মেরামত, মেডিকেল ও রিএজেন্ট কোড, পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন, মুদ্রণ-বাঁধাই, কোটেশন ছাড়াই ভুয়া বিল-ভাউচার করে প্রতিনিয়তই বিপুল পরিমাণ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন। ইন্সটিটিউট ক্যাম্পাসের ভিতর ডিজির ড্রাগ এডমিনিষ্টেশনের বরাদ্দকৃত জায়গায় একতলা ভবন নির্মাণ করে নিজে বাস করছেন। সেখানে অসংখ্য ঘর তুলে ভাড়া দিয়ে প্রতি মাসে লক্ষ লক্ষ অবৈধভাবে আদায় করছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। তার বিরুদ্ধে স্যালাইন কালোবাজারে বিক্রির অভিযোগ ওপেন সিক্রেট। সূত্রমতে, ৪২ টাকার সোডিয়াম ক্লোরাইড স্যালাইন ৩ হাজার টাকায়ও বিক্রি করে থাকেন। এক সময় তিনি ৩য় শ্রেণীর কর্মচারী সমিতির নেতা ছিলেন। সে সময় তার বিরুদ্ধে সমিতির বিশাল অংকের টাকা আত্মসাতের অভিযোগ ওঠে। আলোচিত দুর্নীতিবাজ হিসাবরক্ষক মাহবুব এখানে একটানা ২৬ বছর কর্মরত রয়েছেন। মাঝে তাকে এক সময় বক্ষব্যাধি হাসপাতালে বদলী করা হলেও তিনি ম্যানেজ করে তা বাতিল করেছেন। বদলীর বিষয়ে মাহবুবের মূল্যায়ন হচ্ছে, তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণীর সরকারী কর্মচারীদের সাধারণত বদলি হয় না, যদি কেউ ইচ্ছা না করে। সরকারের ইচ্ছায় নয়, বদলি ও বদলি আদেশ বাতিলে কর্মচারীর ইচ্ছাই মুখ্য।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, জনস্বাস্থ্য ইন্সটিটিউটের আলোচিত হিসাবরক্ষক মাহবুবুর রহমান শুধুমাত্র অনৈতিকতার আশ্রয় নিয়ে কয়েক শত কোটি টাকার অবৈধ অর্থ-সম্পদের মালিক হয়েছেন। তিনি স্ত্রী ও তার সাতজন শ্যালিকা প্রত্যেকের নামে ১০ কোটি টাকা করে এফডিআর ওগ মীরপুর শেওড়া পাড়ায় আলিশান ফ্লাট আছে বলে জানা যায়।
অভিযোগের বিষয়গুলো জানার জন্য অভিযুক্ত হিসাবরক্ষক মাহবুবের সাথে কথা হলে তিনি বলেন, ‘শুধু মাত্র আমার মাধ্যমে জনস্বাস্থ্য ইন্সষ্টিটিউট চলে না।’

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
© All rights reserved © 2014-2021 | Savarbarta24.com
Desing BY Mutasim Billa