সোশ্যাল মিডিয়ায় মোদি-ম্যাজিকের নেপথ্যে

অনলাইন ডেস্ক : ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি কিছু বলামাত্রই তা সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। কীভাবে সম্ভব? পুরোপুরি না জানলে বলবেন, এটা মোদি–ম্যাজিকই বটে। আসল কথা হলো মোদি ও তাঁর দল বিজেপির জন্য এ ম্যাজিক বা কারিশমা দেখান আসলে একদল পেশাদার ডিজিটাল মার্কেটিং কর্মী। ইন্ডিয়া টুডে টিভির পরামর্শক সম্পাদক রাজদীপ সারদেশাই সম্প্রতি ভারতের ইংরেজি সংবাদমাধ্যম স্ক্রল ডটইনে লেখা এক প্রতিবেদনে মোদি ও বিজেপির কারিশমার নেপথ্যের বিষয়টিকে তুলে ধরেছেন।

স্ক্রল ডটইনের প্রতিবেদনে রাজদীপ সারদেশাই ভারতের সাবেক সরকারি কর্মকর্তা, বিশেষজ্ঞ, বিজেপির ডিজিটাল মিডিয়া টিমের কর্মীদের বরাতে বিভিন্ন তথ্য তুলে ধরেছেন। ভারতের সাবেক একজন সরকারি কর্মকর্তা বলেছেন, ‘বিশ্বের কোনো দেশের কোনো নেতাই মোদির মতো সামাজিক যোগাযোগের ওয়েবসাইটে এতটা আসক্ত নন। তিনি প্রতিদিন সকালে তাঁকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগের সাইটে কোন প্রভাবশালী ব্যক্তি কী বলেছেন, তার বিস্তারিত তালিকা পেয়ে থাকেন।’

প্রধানমন্ত্রী মোদির করা প্রতিটি টুইট প্রকাশের আগে একাধিক বিশেষজ্ঞ তা বারবার খতিয়ে দেখেন। প্রতিটি টুইটে মোদির ভাবমূর্তি যেন দেশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নেতা হিসেবে রক্ষিত হয়, সে বিষয়টি খেয়াল রাখা হয়। যখন তিনি গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন, তখন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংকে তোপ দাগিয়ে টুইট করতেন। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, ২০১৩ সালে যখন রুপির অবমূল্যায়ন (ডলারের বিপরীতে) শুরু হলো, তিনি টুইট করেছিলেন, ‘ইউপিএ সরকার ও রুপি কে কার আগে নিচে নামতে পারে, তার প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে।’ তবে প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পরেই ভোল পাল্টে ফেলেছেন মোদি। এখন তাঁর সব টুইট সর্বোচ্চ কর্মকর্তা হিসেবে নিজের অর্জনকেন্দ্রিক ও বিরুদ্ধ রাজনৈতিক নেতাদের জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানানোর মতো আচারে পরিণত হয়েছে।

মোদির টুইটার সামলানোর দায়িত্বে থাকা টিম মোদির এক সদস্য বলেছেন, ‘মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যেমন ফেসবুক বা টুইটারে যা খুশি তা–ই বলে ফেলেন, মোদি তেমন নন। তিনি সবকিছু পরিকল্পনামাফিক করে থাকেন।’

এ বছর ভারতে সাধারণ নির্বাচনের আগে ফেসবুক ও টুইটারে বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় নেতা হওয়ার খুব কাছাকাছি ছিলেন মোদি। ফেসবুকে ভেরিফায়েড ‘নরেন্দ্র মোদি’ নামে তাঁর ব্যক্তিগত পেজে ৪ কোটি ৪৪ লাখ লাইক রয়েছে। টুইটারেও একই নামে ভেরিফায়েড পেজে ৫ কোটির ২১ লাখের বেশি অনুসারী নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পরেই সবচেয়ে অনুসারী নেতা হয়ে দাঁড়িয়েছেন মোদি। ইউটিউবে তাঁর ১০০টিরও বেশি ভিডিও রয়েছে। এর বাইরে লিংকডিন ব্যবহার করেন তিনি। ২০১৯ সালের অক্টোবর মাসে মিলেনিয়ালদের মধ্যে জনপ্রিয় সাইট ইনস্টাগ্রামে ৩ কোটি ফলোয়ার পার হয়েছে তাঁর।

সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম ও রাজনৈতিক সম্পর্ক বিষয়ের বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক জয়জিত পাল বলছেন, ‘মোদির আগে ভারতের রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের মধ্যে কেউই রাজনীতি ও প্রযুক্তির মধ্যে এমন সমন্বয় ঘটাতে পারেননি। শুধু মোদিই নন, বিজেপির জ্যেষ্ঠ নেতাদের প্রত্যেকেই এবং তাঁর কেবিনেটের প্রত্যেক সদস্য সামাজিক যোগাযোগের সাইটে সক্রিয়। তাঁদের কার্যক্রম সতর্কতার সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করে প্রধানমন্ত্রী অফিস (পিএমও)। প্রত্যেক কেবিনেট মন্ত্রীর তাঁর অফিসে নিজস্ব সোশ্যাল মিডিয়া টিম ও ব্যক্তিগত সহকারী রয়েছেন, যাঁরা হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপের মাধ্যমে পরস্পরের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখেন। যেসব ভিডিও আপলোড করা হবে বা যেসব টুইট শেয়ার করা হবে, সেগুলো নিয়ে নিয়মিত আলোচনা হয়।’

ভারতের কেন্দ্রীয় একজন মন্ত্রী এ বিষয়ে বলেছেন, ‘আমাদের অত্যন্ত সুগঠিত সিস্টেম রয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর যেকোনো টুইট তাৎক্ষণিক লাইক দেওয়া ও রিটুইট করা হয়। এমনকি, কোনো ভিডিও পোস্টের পর দ্রুত তা শেয়ার করা হয়।’

২০১৯ সালের ১৭ মার্চ এ সিস্টেমচালিত পদ্ধতি পরীক্ষা করে দেখা হয়। লোকসভা নির্বাচনের কয়েক সপ্তাহ আগে ওই সিস্টেম চালু করার পরেই মোদি তাঁর ব্যক্তিগত টুইটারের ইউজার নেম পরিবর্তন করে ‘চৌকিদার নরেন্দ্র মোদি’ রাখা হয়। ওই সিস্টেমের মাধ্যমে ‘হ্যাশট্যাগ ম্যায়ভি চৌকিদার’ (আমিও চৌকিদার) কর্মসূচি চালু করা হয়। মোদির প্রতিদ্বন্দ্বী কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীর ‘চৌকিদার চোর হু’ কর্মসূচির জবাবে পরিকল্পিতভাবে ‘চৌকিদার নরেন্দ্র মোদি’ কর্মসূচি শুরু করা হয়। ‘চৌকিদার চোর হু’ কর্মসূচির মাধ্যমে ভোটারদের মধ্যে প্রভাব ফেলছিল কংগ্রেস। মোদি ওই সময় টুইট করেন, ‘আপনাদের চৌকিদার জাতিকে সেবার জন্য শক্তভাবে দাঁড়িয়ে রয়েছে। কিন্তু আমি একা নই। যারা দুর্নীতি, আবর্জনা ও সামাজিক শত্রুর বিরুদ্ধে লড়ছে, সবাই চৌকিদার। যারা ভারতের উন্নয়নে কঠোর পরিশ্রম করছে, সবাই চৌকিদার। আজ ভারতের প্রতিজন নাগরিক বলছে হ্যাশট্যাগ ম্যায় ভি চৌকিদার।’ মোদির এ টুইটের কয়েক মিনিটের মধ্যেই প্রত্যেক কেবিনেট মন্ত্রী ও বিজেপি নেতা তাঁদের ইউজার নেমের সঙ্গে ‘চৌকিদার’ যুক্ত করে দেন। আরেক টুইটের সঙ্গে মোদির তিন মিনিটের একটি ভিডিও জুড়ে দেন। এ ছাড়া ফেসবুকেও এই ভিডিও ছাড়া হয়। মোদি তাঁর সমর্থকদের ম্যায় ভি চৌকিদার অঙ্গীকার করতে বলেন। ভিডিওটি নামো অ্যাপে ছাড়া হয়। ওই অ্যাপও দেড় কোটি ডাউনলোড হয়েছে। ৩১ মার্চ মোদি ৫০০ এলাকার চৌকিদার কর্মসূচির সঙ্গে যুক্ত দর্শকদের সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্সে সরাসরি যোগাযোগ করেন। এভাবে নানা প্ল্যাটফর্মে কংগ্রেসকে ঠেকানোর চেষ্টা চালানো হয়।

টিম মোদির এক সদস্য বলেন, ‘ভারতের রাজনীতির ইতিহাসে এত বড় সোশ্যাল মিডিয়ার অনুষ্ঠান হয়েছে বলে মনে হয় না।’

‘চৌকিদার’ নামের এ কর্মসূচি মোদির সোশ্যাল মিডিয়া টিম ও পিএমও যৌথভাবে চালু করে। এটি বাস্তবায়নের দায়িত্বে ছিল গুরুগ্রামভিত্তিক রাজনৈতিক পরামর্শক প্রতিষ্ঠান অ্যাসোসিয়েশন ফর বিলিয়ন মাইন্ডস (এবিএম)। প্রতিষ্ঠানটি বিজেপি সভাপতি অমিত শাহের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত এবং তাঁর ব্যক্তিগত নির্বাচনী ইউনিট হিসেবে কাজ করে। ভারতের নির্বাচনী দলগুলোকে কৌশলগত পরিকল্পনাকারী হিসেবে পরামর্শদাতা প্রশান্ত কিশোর এর আগে মোদির বিভিন্ন কর্মসূচি পরিচালনা করেন। ২০১৪ সালে প্রশান্তের ‘চায় পে চর্চা’ নামের একটি উদ্ভাবনী কর্মসূচির আদলেই এবিএম ২০১৯ সালে চৌকিদারের ধারণা নিয়ে সফলতা পায়।

এবিএম এত দিন গোপনে এবং পেছন থেকে নানা কাজ করেছে। আসলে অমিত শাহ চেয়েছেন, যেন এ টিম পেছনে থেকেই কাজ করতে পারে। শিষ্টাচারের তোয়াক্কা না করেই ৩১ মার্চ চৌকিদার অনুষ্ঠানটি সরকারি টেলিভিশন দূরদর্শনে সম্প্রচার করা হয়। সরকার ও দলের মধ্যেকার সীমারেখা প্রথমবারের মতো পুরোপুরি মুছে দেওয়া হয় এর মাধ্যমে। দর্শকদের কাছে পৌঁছানোর তাড়া আর বেড়ে যায় মোদির দলের। ‘ম্যায় ভি চৌকিদার’–সংক্রান্ত আধা ডজন ভিডিও ও থিম সং টিভি ও সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে ছাড়ে বিজেপি। এসব ভিডিও নির্মাণের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন আহমেদাবাদভিত্তিক বিজ্ঞাপনী প্রতিষ্ঠান মুভিং পিক্সেলের প্রধান মনীশ বারডিয়া। ২০০২ সাল থেকে মোদির রাজনৈতিক কর্মসূচির সঙ্গে কাজ করছে তাঁর প্রতিষ্ঠান।

ম্যায় ভি চৌকিদারের পক্ষ থেকে টুপি, টি-শার্ট, রিস্টব্যান্ড নমো অ্যাপ থেকে বিক্রি করা শুরু হয়। এতে ‘চৌকিদার’ ক্যাম্পেইন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। সময়টাও বিজেপির পক্ষে চলে যায়। ২০১৯ সালের প্রথম ছয় সপ্তাহে বিজেপির চেয়ে টুইটারে কংগ্রেস বেশি ট্রেন্ডিং ছিল। চৌকিদার চোর হ্যায় স্লোগানকে স্তব্ধ করে দিয়ে দ্রুত সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমের জায়গা কেড়ে নিল মোদির কর্মসূচি। এর মধ্যেই গত ১৪ ফেব্রুয়ারি কাশ্মীরের পুলওয়ামায় সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা ঘটে। রাজনৈতিক এজেন্ডা বদলে জাতীয় নিরাপত্তার বিষয়টি সামনে চলে আসায় মানুষকে টানতে পারে বিজেপি। সপ্তাহ দুয়েকের মধ্যেই বালাকোটে বিমান হামলার জের ধরে ‘চৌকিদার চোর’ থেকে জাতীয় স্বার্থে প্রতিরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে চৌকিদারকে তুলে ধরতে শুরু করে মোদির টিম।

অধ্যাপক জয়জিত পাল বলেন, ‘২০১৪ সালের তুলনায় ২০১৯ সালে মোদির বিভিন্ন কর্মসূচির পার্থক্য হলো নেটিজেনদের কাছে কত সুন্দরভাবে বার্তা পৌঁছে দেওয়ার যায়, সে বিষয়টিই। এখন মোদির টিম জানে কোনো কিছু কত দ্রুত সময়ে ভাইরাল করা বা ছড়িয়ে দেওয়া যাবে।’

২০১৪ সালে ভারতে ২৫ কোটির মতো ইন্টারনেট ব্যবহারকারী ছিল, যা ২০১৯ সালে দ্বিগুণের বেশি বেড়েছে। দেশটিতে স্মার্টফোন ব্যবহারকারী ২০১৪ সালে ছিল সাড়ে ১৫ কোটি, যা গত ৫ বছরে তিন গুণ বেড়ে ৪৫ কোটি ছাড়িয়েছে। দেশটিতে হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহারকারী রয়েছে ৩০ কোটির বেশি। দেশটিতে নির্বাচনের সময়ে ফেসবুক ও হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহারকারী ছিল প্রায় সমান। ২০১৯ সালের নির্বাচনের সময় মোদির টিম ধরে নিয়েছিল, এবারের নির্বাচন–যুদ্ধ হবে স্মার্টফোনে। বিশেষ করে শহরাঞ্চলে অপেক্ষাকৃত তরুণ জনগোষ্ঠীর মধ্যে স্মার্টফোনেই যুদ্ধ করতে হবে তাদের।

বিজেপির আইটি ও সোশ্যাল মিডিয়া সেলের আহ্বায়ক অমিত মালব্য বলেন, ‘ভারতের প্রথমবার সত্যিকারের সোশ্যাল মিডিয়াভিত্তিক নির্বাচন ছিল এবার। টিভি স্টুডিওর চেয়েও বেশি গুরুত্ব দিয়ে হোয়াটসঅ্যাপে লড়তে হয়েছে।’

২০১৫ সালে বিজেপির মিডিয়া সেলে যুক্ত হওয়ার আগে অমিত ব্যাংক অব আমেরিকা ও এইচএসবিসিতে করপোরেট খাতে কাজ করেছেন। বিজেপিতে যুক্ত হয়ে তাঁর দায়িত্ব ছিল বিজেপির ডিজিটাল সম্পদের সংযুক্তি ও শক্তিশালী করা। ২৫ সদস্যের একটি টিম নিয়ে বিজেপির কর্মী ও স্বেচ্ছাসেবীদের সংযুক্ত করে দেশব্যাপী নানা কর্মশালা পরিচালনা করেন তিনি। কেন্দ্র থেকে এবারের বুথ পর্যায় পর্যন্ত কাজ করেন তাঁরা। তাঁদের উদ্যোগে প্রতিটি বুথ কমিটিতে এখন কমপক্ষে পাঁচজন বিজেপি কর্মী আছেন, যাঁরা প্রযুক্তিজ্ঞান রাখেন এবং যাঁদের হাতে স্মার্টফোন রয়েছে।

মালব্য আরও দাবি করেন, বিজেপির সোশ্যাল মিডিয়ার ব্যাপ্তি এখন ব্যাপক। তিনি যখন শুরু করেন, তখন বিজেপির ডোমেইন নাম ছিল বিজেপি ৪ ইন্ডিয়া ও টুইটারে মাত্র ১৭ লাখ অনুসারী ছিল। এখন ১ কোটি ১৬ লাখ অনুসারী পার হয়েছে। ফেসবুকে ফলোয়ার ছিল ৭২ লাখ, যা এখন ১ কোটি ৬০ লাখ পার হয়েছে। সোশ্যাল মিডিয়াতে বিজেপির ১২ লাখ স্বেচ্ছাসেবী নিবন্ধিত কর্মী রয়েছেন। এ ক্ষেত্রে তাঁদের এগিয়ে চলার হার পুরোপুরি অরগানিক।

বিজেপির জনমতকে প্রভাবিত করার পেছনে রয়েছে গত পাঁচ বছরে লাখো বিজেপি সদস্য ও সমর্থকেদের সেট করে রাখা লাখো হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ। প্রতিটি গ্রুপ থেকে নিয়মিত পরস্পরের সঙ্গে তথ্য শেয়ার করা ও যোগাযোগ করা হয়। রাজনৈতিক নানা প্রচারে একে আদর্শ পাইপলাইন মনে করে এগোচ্ছে তারা। ২০১৯ সালের নির্বাচনে বিজেপি যেভাবে হোয়াটসঅ্যাপ কাজে লাগিয়েছে, তার আদর্শ উদাহরণ হচ্ছে পশ্চিমবঙ্গ।

বিদেশে কাজ করতে যাওয়ার আগে ২০১২ সালে বিজেপি বেঙ্গল ইউনিট আইটি সেল তৈরিতে সাহায্য করেন উজ্জ্বল পারিক। ২০১৮ সালের জানুয়ারিতে তিনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে পরাজিত করতে আবার দেশে ফিরে আসেন। এক বছরের বেশি সময় ধরে বিজেপির ডিজিটাল প্রচারের কাজটির দেখাশোনা করছেন পারিক। তিনি পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন জেলার বিজেপি কার্যালয়গুলো ঘুরে ডিজিটাল সৈনিক গড়ার কাজ করছেন। ২০১৯ সালের জানুয়ারিতে তিনি ১০ হাজার সোশ্যাল মিডিয়া স্বেচ্ছাসেবীর একটি টিম দাঁড় করান এবং ৫০ হাজারের বেশি হোয়াটসঅ্যাপ ও শেয়ারচ্যাট গ্রুপ তৈরি করেন। এসব গ্রুপ রাজ্যের প্রধান কার্যালয় থেকে নানা চেইন অব কমান্ডের মাধ্যমে পরিচালনা করা হয়।

পশ্চিমবঙ্গে সাড়ে ছয় কোটি ভোটার ও তিন কোটি স্মার্টফোন ব্যবহারকারী রয়েছে। রিয়েল টাইমে ভিডিও শেয়ার করে এসব ভোটারের কাছে পৌঁছানোর মোক্ষম সুযোগ নিয়েছে বিজেপি। এসব গ্রুপ ব্যবহার করে মমতার বিরুদ্ধে নানা তথ্য ছড়ানো এবং তাঁর কর্মসূচির বিরুদ্ধে নানা কথা ছড়ানোর অভিযোগও রয়েছে।

পারিক বলেন, ‘রাজনৈতিক বিভিন্ন বার্তা তাঁরা রিয়েল টাইমে এমনভাবে ছড়াতে পারেন, যা রাজনৈতিক কোনো শোভাযাত্রা করেও এত মানুষের কাছে পৌঁছানো যায় না।’

মাত্র এক মাসের ডিজিটাল নির্বাচনী প্রচারে বিজেপি ৪ বেঙ্গল দাবি করেছে, তারা দুই কোটি মানুষকে ফেসবুকে যুক্ত করতে পেরেছে। তাঁদের মধ্যে অনেকেই তরুণ ভোটার। পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির খুঁটি শক্ত করতে এটাই তাঁদের বেশি দরকার।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *