সাভারে বনগাঁও ইউনিয়ন চেয়ারম্যানের বিচারের দাবীতে মানববন্ধন ও সংবাদ সম্মেলন করেছে এলাকাবাসী

নিজস্ব প্রতিবেদক: সাভারের বনগাঁও ইউনিয়ন পরিষদের বিতর্কিত চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলামের বিরুদ্ধে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের নামে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ বিভিন্নভাবে অপপ্রচার ও ষড়যন্ত্রে লিপ্ত থাকার অভিযোগ তুলে মানববন্ধন করেছে গ্রাম বাসীরা। পরবর্তীতে বিষয়টি নিয়ে ইউনিয়নটির বিভিন্ন ওয়ার্ড সদস্যগন সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেন। রবিবার সকালে সাভারের বনগাঁও ইউনিয়নের সাধাপুর পুরানবাড়ী এলাকায় এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এর আগে চেয়ারম্যান সাইফুল ও তার সহযোগীদের বিচারের দাবীতে অনুষ্ঠিত মানববন্ধন কর্মসূচীতে একাত্মতা ঘোষনা করে অংশ নেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধিসহ বিভিন্ন শ্রেনী পেশার মানুষ।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে বনগাঁও ইউনিয়ন পরিষদের ১ নং সদস্য মান্নান হাওলাদার বলেন, বনগাঁও ইউনিয়ন পরিষদের বিতর্কিত চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলাম তার আত্মীয়-স্বজনসহ নিজস্ব ৪৭ জন বিত্ত ও সম্পদ শালী ব্যক্তিদের ভূমিহীন উল্লেখ করে প্রত্যয়নপত্র দিয়ে তাদেরকে ভূমিহীন লীজ গ্রহীতা সদস্যদের তালিকায় অন্তভূক্ত করার নির্দেশ দেয়। কিন্তু আমি তাতে অনীহা প্রকাশ করায় চেয়ারম্যান আমার উপর ক্ষিপ্ত হয়ে উঠে। এছাড়াও ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে নির্বাচিত হওয়ার পর থেকেই আওয়ামী লীগে অনুপ্রবেশকারী বিএনপি’র সাবেক নেতা সাইফুল ইসলামের বিভিন্ন অপকর্মের কারনে ১২ জন মেম্বারের মধ্যে ১১ জন মেম্বার অনাস্থা প্রদান করে সংশ্লিস্ট দফতরে প্রেরণ করি যা বর্তমানে তদন্তাধীন অবস্থায় রয়েছে।

সংবাদ সম্মেলন

তিনি আরও বলেন, সরকারী জমি বন্দোবস্তের তালিকায় নিজের লোকজনের নাম না থাকায় এ খাতে আর্থিক কেলেঙ্কারীর মিথ্যে ধুয়া তুলে বনগাঁও ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলাম ও তার ভাতিজা ফরিদ এবং রাসেল বিষয়টিকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে অপপ্রচার করে চলেছে। এতে করে সামাজিকভাবে পরিবারের সদস্যসহ আমাদের হেয় ও বিব্রত হতে হচ্ছে যা তথ্য প্রযুক্তি আইনের সুনির্দিষ্ট লংঘন। এ ঘটনায় আমাদের পক্ষ থেকে ইতিমধ্যেই আইনী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
এসময় তিনি বনগাঁও ইউনিয়নের বিতর্কিত চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলামের অন্যায় অপকর্মের বিষয়ে অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রচারের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য তুলে ধরার জন্য সাংবাদিকদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

তবে অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে বনগাঁও ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলাম বলেন, মান্নান হাওলাদার সরকারী খাজ জমি লীজ এনে দেয়ার কথা বলে বিভিন্ন লোকজনের কাছ থেকে টাকা নিয়েছে। আমাকেও কয়েকজন লোক দিতে বললে আমি আমার গ্রামের কিছু ভূমিহীন লোককে ওই তালিকায় অন্তর্ভূক্ত করার জন্য তাদের পরামর্শেই ভুমিহীন সনদ প্রদান করেছি। কিন্তু আমি কারও কাছ থেকে কোন টাকা পয়না নেইনি। আমার বিরুদ্ধে মান্নান হাওলাদার ও তার লোকজন মিথ্যা অপপ্রচার চালাচ্ছে যা সুষ্ঠ তদন্ত করলেই পরিস্কার হয়ে যাবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *