লাইসেন্স নবায়নের জন্য ১২ হাজার বেসরকারি হাসপাতালের আবেদন

নিজস্ব প্রতিবেদক: রাজধানীসহ সারাদেশের বেসরকারি হাসপাতাল, ক্লিনিক এবং ডায়াগনস্টিক ও ব্লাড সেন্টারের লাইসেন্স নবায়নের জন্য স্বাস্থ্য অধিদফতরের বেঁধে দেয়া সময়সীমা গতকাল রোববার (২৩ আগস্ট) শেষ হয়েছে।

লাইসেন্স নবায়নের জন্য অনলাইনে আবেদনপত্র জমা পড়েছে ১২ হাজার ২২১টি। এর মধ্যে প্রয়োজনীয় সব শর্ত পূরণ ও সরেজমিন পরিদর্শন শেষে লাইসেন্স পাওয়ার জন্য উপযুক্ত হিসেবে বিবেচিত হয়েছে মাত্র চার হাজার ৫১৯টি। শিগগিরই এ প্রতিষ্ঠানগুলোর লাইসেন্স নবায়ন হবে।

স্বাস্থ্য অধিদফতরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক) ডা. ফরিদ হোসেন মিয়া সোমবার (২৪ আগস্ট) দুপুরে এ তথ্য জানান।

লাইসেন্স নবায়নের ব্যাপারে বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানগুলোর আশাব্যঞ্জক সাড়া পাওয়া গেছে জানিয়ে ডা. ফরিদ হোসেন মিয়া বলেন, সব শর্ত পূরণ করে লাইসেন্স নবায়নের জন্য উপযুক্ত বিবেচিত হয়েছে চার হাজার ৫১৯টি প্রতিষ্ঠান। এর বাইরে আবেদনকারী আরও এক হাজার ৭৩৬টি প্রতিষ্ঠানের পরিদর্শন শেষ হয়েছে। এছাড়া আবেদনকারী দুই হাজার ৬৭৪টি প্রতিষ্ঠান পরিদর্শনের জন্য অপেক্ষমাণ।

তিনি জানান, অসম্পূর্ণ আবেদনপত্র জমা দেয়ার কারণে তিন হাজার ২৫৬টি প্রতিষ্ঠানের কাছে ব্যাখ্যা চেয়ে তথ্য চাওয়া হয়েছে। ওইসব প্রতিষ্ঠানসহ আজ ২৪ আগস্ট দুপুর পর্যন্ত অসম্পূর্ণ আবেদনপত্রের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে তিন হাজার ৪৬৮টিতে।

মহামারি করোনাভাইরাস সংক্রমণকালে রিজেন্ট হাসপাতালের নানা অনিয়মের খবর প্রকাশ হওয়ার পরই লাইসেন্সবিহীন হাসপাতালের বিরুদ্ধে অভিযানে নামে সরকারের বিভিন্ন সংস্থা।

অভিযানে দেখা যায়, বেসরকারি হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলোর বড় অংশেরই নেই নিবন্ধন। আবার কিছু আছে লাইসেন্স নিলেও তা নবায়ন করেনি। এসব প্রতিষ্ঠানের লাগাম টানতে লাইসেন্স নবায়ন ও নিবন্ধনে গত ৮ আগস্ট স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয় কর্তৃক গঠিত হাই পাওয়ার টাস্কফোর্সের সভায় সিদ্ধান্ত হয়, লাইসেন্স নবায়ন না করা হলে আগামী ২৩ আগস্টের পর লাইসেন্সবিহীন সব হাসপাতাল বন্ধ করে দেয়া হবে। এমন ঘোষণার মাত্র দুই সপ্তাহের মধ্যে ১২ হাজারের বেশি হাসপাতাল, ক্লিনিক, ডায়াগনস্টিক সেন্টার এবং ব্লাড ব্যাংক লাইসেন্সের নবায়নের জন্য আবেদন করে।

স্বাস্থ্য অধিদফতরের ২০১৮ সালের তথ্য অনুযায়ী, দেশে হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের সংখ্যা ১৭ হাজার ২৪৪টি। এর মধ্যে ঢাকা বিভাগে পাঁচ হাজার ৪৩৬টি, চট্টগ্রাম বিভাগে তিন হাজার ৩৭৫, রাজশাহী বিভাগে দুই হাজার ৩৮০, খুলনায় দুই হাজার ১৫০, রংপুরে এক হাজার ২৩৬, বরিশালে ৯৫৭, ময়মনসিংহে ৮৭০ এবং সিলেট বিভাগে ৮৩৯টি।

এসব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ১২ হাজার ২২১টি হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার এবং ব্লাড ব্যাংক লাইসেন্স নবায়নের জন্য আবেদন করেছে। সে হিসাবে পাঁচ হাজারেরও বেশি প্রতিষ্ঠান লাইসেন্স নবায়নের জন্য আবেদনই করেনি।

স্বাস্থ্যমন্ত্রীসহ নীতিনির্ধারকদের সঙ্গে আলোচনা করে সুযোগ পেয়েও লাইসেন্স নবায়নে আবেদন না করা প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানিয়েছে একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *