বিরুলীয়ায় গোলাপ বাগান পুড়ানোর ঘটনায় থানায় অভিযোগ করেও বিচার না পেয়ে দিশেহারা গোলাপ চাষী

নিজস্ব প্রতিবেদক: সাভার উপজেলার বিরুলীয়া ইউনিয়নের বাগ্নীবাড়ি গ্রামে জমির মালিকানা বিরোধের জের ধরে একটি গোলাপ বাগান পেট্রোল দিয়ে রাতের আঁধারে পুড়িয়ে দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। এ ঘটনায় সাভার মডেল থানায় অভিযোগ দিলেও ৪ দিন অতিবাহিত হওয়ার পরও রহস্যজনক কারনে এখনও মামলা দায়ের হয়নি বলে জানাগেছে।

গত রবিবার (১৮ আগষ্ট) ভোররাতে গোলাপ বাগানের সমস্ত গাছ কেটে পেট্রোল দিয়ে পুড়িয়ে ফেলারও চেষ্টা করে দুর্বত্তরা। খবর পেয়ে গোলাপ বাগানের চাষী আম্বর আলী আগুন নিভালেও গোলাপ গাছ গুলো আর বাঁচাতে পারেনি।

ক্ষতিগ্রস্থ বাগানের চাষী আম্বর আলী জানান, বিগত ২০ বছর ধরে জমির মালিক এবাদত শিকদার ও তার স্বজনদের কাছ থেকে ৪৫ শতাংশ জমি পত্তন নিয়ে গোলাপ বাগান করে আসছেন। রবিবার রাতে বাগানের ফুল নিয়ে ঢাকার শাহবাগে গেলে স্থানীয় লিয়াকত আলী, কুতুব উদ্দিন সজিব ও উত্তমসহ প্রায় ২০-২৫ জনের একদল সন্ত্রাসী আমার বাগানের সমস্ত গাছ কেটে ফেলে এবং পেট্রোল ঢেলে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে ফেলার চেষ্টা করে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানায়, অভিযুক্ত লিয়াকত আলী বাহিনী স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান সুজনের ঘনিষ্টভাজন। তাই তারা নির্ভয়ে এ ধরনের অপকর্ম করে বেড়াচ্ছে। থানায় অভিযোগ দিলেও পুলিশ ব্যবস্থা নিচ্ছে না।

তিনি আরও বলেন, প্রতিবছর গোলাপ বাগানে ৩০ লাখ টাকার ফুল বিক্রি করা হয়। তাতে সব খরচ বাদ দিয়ে আমার ১০ লাখ টাকা লাভ হয়। কেটে ফেলা বাগানটি নতুন করে করতে গেলে প্রায় ১০ লাখ টাকা দরকার। এছাড়া বাগানটি বর্তমান অবস্থায় আসতে দুই বছর সময় লাগবে, যেখানে আমার আরও ২০ লাখ টাকার আয় হতো। সব মিলিয়ে বাগানটিতে আমার ত্রিশ লাখ টাকার ক্ষতি হওয়ায় এখন আমার পথে বসা ছাড়া কোন উপায় নেই।

তিনি আরও বলেন, আমি ইজারা নিয়ে চাষ কর। যদি মালিকানা নিয়ে বিরোধ থাকে আমাকে আগে নোটিশ দিলে আমি ব্যবসা গুটিয়ে নিতাম। হটাত আমাকে না জানিয়ে এভাবে ক্ষতি করার মতো কোন শত্রুতা আমার সাথে নেই। আমি বিচারের জন্য থানায় গেছি। কোন বিচার পাইনি।

এ ঘটনায় আম্বর আলী বাদী হয়ে স্থানীয় স্থানীয় সন্ত্রাসী বাহিনী লিয়াকত আলী, কুতুব উদ্দিন সজিবসহ অজ্ঞাত ২০-২৫ জনের বিরুদ্ধে সাভার মডেল থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। বিষয়টি স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান সাইদুর রহমান সুজন আগামী সোমবার বিচার করে দিবে বলে মামলা দায়ের করা থেকে বিরত থাকতে বলেছেন।

স্থানীয় একাধিক সূত্র জানায়, অভিযুক্ত লিয়াকত আলীর নেতৃত্বে বাগান পোড়ানোর সত্যতা পাওয়া গেছে। জমিটি ওয়ারিশ সূত্রে মালিকানা দাবি নিয়ে বাগানের গাছ কাটা ও পোড়ানো হয়েছে।

বিরুলীয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সাইদুর রহমান সুজন বলেন, বিষয়টি আগামী সোমবার বিচারের জন্য সময় দিয়েছি। যদি সমাধান না হলে ক্ষতিগ্রস্থ চাষীকে মামলায় যাওয়ার জন্য পরামর্শ দিয়েছি।

সাভার মডেল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আজগর আলী বলেন, গোলাপ বাগান কেটে ফেলার বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *