নেতা হয়, ভাই মঞ্জুরুল আলম রাজীব

মোহাম্মদ সফিউল্লাহ সুজন:

ছোট বেলা আমাদের মনে ইরাকের সাদ্দাম হোসেন, আমেরিকার বুশ, আর্জেন্টিনার মেরাডোনা,ব্রাজিল এর পেলে, বিশ্বকাপে ব্রাজিল বা আর্জেন্টিনার সাপোর্ট করা এদের চিনে বা না চিনে, বুঝে বা না বুজে, অনেকেরই ফ্যান হয়ে যায় অথবা হুদাই আপন পর হয়ে যায়।

মঞ্জুরুল আলম রাজীব

আমার মনের ভেতর (চেনা-জানা-বুঝা এমনকি রাজীব-সমর একজনের নাম এমনই শুরুতে বুঝতাম পুরো নামটি রাজীব-সমর), এই নামের সাপোর্টার মন থেকেই। এমনকি বর্তমানে দেখে মনে হয় বা বুজি বা অনেকেরই মনে যে আমি রাজীব ভাই এর তুমি বা সে সমর ভাই এর, আমার কাছে এখনও একজনই, রাজীব সমর। আল্লাহ এই একজনের (রাজীব-সমর) সাথে একান্তে হলেও পাঁচ মিনিট মন খুলে কথা বলার সুযোগ ওনাদের কাছ থেকে দেয়াতে, শুকরিয়া।

একদিন সকাল ৮/৯ টার মধ্যে সমর ভাই আমাকে খুজতে কোথাও গিয়েছিল,সমর ভাই বলছিলো, এই এইডা কোন সুজনরে?সাভারে আওয়ামী লীগ আমরা জন্ম দিলাম সুজন কোন আওয়ামী লীগ বুঝার আছে,চেনার আছে। নগদ আমার এক ভাইকে ফোন করে বললাম-ভাই আমি আপনারে সমর ভাই এর নং দিতাছি,এতো সকালে সমর ভাই যখন আমারে খুজতেছে, তাইলে তো আমি শেষ, আপনি খালি ফোন দিয়া বলেন, ভাই আপনি কি ওমগ জায়গায় এখন? যা বলা তাই করা- সমর ভাই তার ফোন পেয়ে তাকে বললো,কিরে আমি এখানে তুই জানলি কেমনে? সুজন মনে হয় তাইলে তোর পরিচিত? তখন উনি বললো ভাই আমি সুজনকে নিয়ে আসতেছি এখনই। গেলাম আর দেখা মাত্রই ও “তুই নাকি?? সুজন, তোর নাম তো জানিনা, তোরে তো চিনি, “তুই আমাগো রাজীব এর কাছে আহছ”। কথাটা শুনতে কেমন যে লাগলো, দিলডা ভইরা গেলো।উপর আল্লাহ অন্তরজামী, সে-তো, জানে। যে ভাই আমাকে সমর ভাই এর কাছে নিয়ে গেলো তার মুখে এতো কথা গল্প সমর ভাই এর, হাজার কথার মাঝে একটা কথা খুব বেশি বলতো, সমর ভাই আমাকে ওমক দিনে সারা বছরে ঐ দিনে ফোন দেয়,সে যেখানেই থাকুক,দেশে বা বাইরে, আমি সত্যিই মনে করতাম চাপা মারে, উপরাল্লাহ আমাকে নিজে তার প্রমান সত্য না মিথ্যা বুঝিয়ে দিয়েছে, আমি আর ঐ ভাই ২০০১/০২ এর ঐ তারিখের বা ঐ দিনটিতে একসাথে ঢাকায়, ভাই এর ফোনটি আমার হাতে, ফোনটি বাজলো আমি ফোন ধরে ভাই ওপাশ থেকে বললো-আমি সমর বলছি, ওরে বইলো ওর সমর ভাই, দেশে নাই ওমক দেশ থেকে ফোন দিয়েছি, তখন তাকে দিলাম কথা বলতে, এই হলো সমর ভাই। আমি এমনকি পরিবারের সদস্যদের অন্তরেও এই রাজীবসমরকে আপন ভাবে, আমার তার প্রতি আগ্রহ বিশ্বাস দেখেই এবং আমার মুখে নাম শোনা দেখা রাজনীতিবিদদেরকে তারাই সবচেয়ে বেশি যাচাই করে ফেলেছে, কর্মকান্ডে। আমার সবচেয়ে বেশি মনে থাকার ঘটনা জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াকালীন সময়ে, ২০০৮ এর জাতীয় নির্বচনের আগের দিন, রাজীব ভাই কে, ০৩ হাজার টাকা দিয়ে একটা পাঞ্জাবি কিনে দিতে গিয়েছিলাম, ভাই এর হাতে উপহারটি তুলে দিয়ে আমি বলেছিলাম ভাই- আগামীকাল এই পাঞ্জাবিটা পড়ে ভোট দিতে যাইয়েন, ভাই তার রিপ্লাইে, যা বলেছিলো-হয়তো ভাই এরও মনে নেই কি বলেছিলো- আমি কোনোদিন ভুলবো না। সেদিন থেকে ভাইকে আমার এই যে এখন নগদ যে ভালোবাসা বাসি আছে, এই ভালোবাসার জন্ম। তখন ভাই এর সাথে জসিম ভাই বাবু ভাই, লিয়াকত ভাই সায়েম ভাই, সোহান ভাই, একজনকে চিনাতাম। সায়েম ভাই তখন উপজেলা ছাত্রলীগ এর সেক্রেটারি। আমি ভাই এর কাছে খুব কম যেতাম বছরে ৪/৫ বার এমন, তবে রিলেশনটা মনে করতাম বা করি ৩৬৫ দিনই, আল্লাহর রহমতে এখন মন চায় ৩৬৫ দিনই যাই তবে পা এর কারনে পারিনা, তবে এখন যাই বা না যাই, আল্লাহ আমাকে ভাই এর কাছেই ৩৬৫ দিনই অদৃশ্য ভাবে আপন করে রেখেছে কোনো উপহার ভাই এর হাত দিয়ে নিজের মুখে বলেই। সেদিনটির খুশি প্রকাশ করার ভাষা আমার এখনও নেই। ভাইকে একটা কাজের পরামর্শ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে, ভাই একাজে আপনার সাথে কাছে যারা থাকে তাদের রেখে দেন, আমি বুঝিয়ে দিলাম, ভাই বললো- ওদের শিখাবি ওরা করবো, তোর মতো পারবো? তুই-ই কর। আমি কাছে দূরে যেখানেই থাকি কাজটি করি,করার চেষ্টা করি, অর্থ খরচ করতে পারলে নজরে নিয়ে আসতাম পুরো দেশবাসীর, রাজীব ভাই দেশবাসী সবাই চিনবে এমনই আমার কাছে তার মাপকাঠি, আমি তাকে না দেখেই ভালোবেসেছিলাম যার প্রতিদান আমি অনেকভাবেই পেয়েছি, এতো অল্প সময় দিয়ে ভাই এর ফিডবেক থেকে, যেখানে রাজনীতিতে সময় পরিশ্রম কষ্ট করে -চোখের পানিতে মূল্যায়ন অন্যরা করেছে। আমি রাজীব ভাই কে আমার নেতা হিসেবে নয় ভাই হিসেবে পছন্দ করি, ভালোবাসি, যেখানে সত্যিই আমার আপন ভাই ও আমাকে এতোটা বুঝতে পারেনি। ৫/৬ বছর দেখা নেই তখন হঠাৎ রাতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটু কথা- আমিই নক দিলাম, ভাল বললো আসিস, অনেকদিন তো তোরে দেখিনা। তার পরদিন গেলাম, রুমে ৩০/৪০ জন থাকায়, ভাই নিজেই উঠে অন্য রুমে গিয়ে বললেন বল,কি অবস্থা? ভাইকে বললাম, ভাই ৫০ হাজার টাকা বেতনের চাকরিটা ছেড়ে দিয়ে আসলাম বিসিএস পাশ করে পুলিশ হবার আশায়, হলো না, আর চাকরি করমু না, এই হলো আমার বাকি জীবনের পরিকল্পনা, আপনার ছায়ায় থাকতে চাই, কাজ করেই, আমার কিছু নাই, রাজনীতি পড়ছি আর করছি, রাজনীতির ছাত্র আপনার সাথে থাকতে চাই, আপনি হবেন সাভার এর এমপি আমি আপনার রাজনৈতিক পিএস হতে চাই। রাজীব ভাই যে কথাগুলো মনে রেখেছে, মনে ঠাই দিয়েছে, তার প্রমান আমার কথাগুলো বলার দিন থেকে ১০/১৫ দিন পরই ১ম দিলো, ২য় টির প্রমাণ… থাক, সবাই জানে, বলা লাগবে না। নেতা হয়, ভাই মঞ্জুরুল আলম রাজীব।

মোহাম্মদ সফিউল্লাহ সুজন, ৩৩ তম ব্যাচ, সরকার ও রাজনীতি বিভাগ , জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়। (সাবেক ছাত্রলীগ কর্মী), মোবাইল: 01721239591

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *