ছাত্রীদের লালসার শিকার হতে বাধ্য করত লম্পট অধ্যক্ষ সিরাজ!

নিজস্ব প্রতিবেদক: ফেনীর সোনাগাজী সিনিয়র ফাজিল মাদরাসার অধ্যক্ষ সিরাজ উদ দৌলার নিয়মিত অভ্যাসে পরিনত হয়েছিল ছাত্রীদের যৌন হেনস্তা করা।

আলিম পরীক্ষার্থী রাফিকে যৌন হয়রানির অভিযোগ ও আগুনে পুড়িয়ে হত্যার পর বেরিয়ে আসছে সেই অধ্যক্ষ সিরাজ উদ দৌলার বিভিন্ন অপকর্মের তথ্য। মাদরাসার একাধিক শ্লীলতাহানির ঘটনা এখন মানুষের মুখে মুখে।

সোনাগাজীর মাদরাসা ছাড়াও আরো দু’টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের যৌন হয়রানির তথ্যও জানিয়েছেন স্থানীয়রা। তারা বলছেন, নারীদেহ দেখলেই নিজেকে আর ঠিক রাখতে পারতেন না এই লম্পট অধ্যক্ষ। যে কোন মূল্যে পছন্দের ছাত্রীর দেহভোগ করতে চাইতেন তিনি।

এসব ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবার ও ব্যক্তিরা রাফির সঙ্গে ঘটে যাওয়া ঘটনার পাশাপাশি অধ্যক্ষ সিরাজ-উদ দৌলার আগের নানা সময়ের এসব অভিযোগেরও ন্যায়বিচার দাবি করেন তারা।

২০০৭ সালে ফেনীর দলিয়া এলাকার সালামতিয়া মাদরাসার এক শিক্ষার্থীকে যৌন হয়রানির অভিযোগে চাকরিচ্যুত হন তিনি। এছাড়া, আল জামিয়াতুল ফালাইয়া মাদরাসায় এক শিক্ষার্থীকে বলাৎকারের অভিযোগেও তৎকালীন ব্যবস্থাপনা কমিটি তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়।

নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জের রংমালা মাদরাসায়ও নারী শিক্ষার্থীকে যৌন হয়রানির অভিযোগে চাকরি হারান সিরাজ। পরে জাল সনদ দিয়ে ফেনীর সোনাগাজী সিনিয়র ফাজিল মাদরাসায় উপাধ্যক্ষ পদে চাকরি নেন বলে অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

সেখানকার প্রভাবশালীদের নিয়ে গড়ে তোলেন নিজের বলয়। সোনাগাজীর ওই মাদরাসায় নারী শিক্ষার্থীদের হয়রানি ছাড়াও তহবিলের টাকা লুটপাট করেন।

এছাড়া, ২০১৮ সালের ১০ জুন নিজের গাড়িচালক মেফতাহুল ইসলামকে হত্যাচেষ্টা করেন সিরাজ। এ কাজে তাকে সহযোগিতা করেন রাফিকে পুড়িয়ে হত্যা চেষ্টা মামলার দুই নম্বর আসমি শামীম। পরে শামীমের ভয়ে অভিযোগ তুলে নেন মেফতাহুল ইসলাম।

২০১৭ সালের ১২ই জুলাই ফেনীর ৮ নম্বর দরিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যানের কাছে সিরাজের বিরুদ্ধে টাকা আত্মসাতের অভিযোগ আনেন ইশরাফিল নামে একজন। অভিযোগের পর তাকেও হত্যার হুমকি দেয়া হয়।

২০১৭ সালের ১১ নভেম্বর নিজের প্রবাসী চাচাতো ভাই নূরনবীকে হত্যার হুমকি দেন সিরাজ। পরে ফেনীর জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে এই বিষয়ে সমঝোতা হয়।

একই বছরের ৬ ফেব্রুয়ারি রফিকুল ইসলাম নামে একজন শিক্ষককে পরীক্ষা কক্ষে লাঞ্ছিত করারও অভিযোগ রয়েছে সিরাজ উদ দৌলার বিরুদ্ধে। পরের বছর ২০১৮ সালে ফেনী জেলা ও দায়রা জজ আদালতে চেক জালিয়াতির অপরাধে তার বিরুদ্ধে ৩২৫/১৮ নম্বর মামলা করা হয়।

নুসরাত জাহান রাফিকে আগুনে পুড়িয়ে মারার চেষ্টার পর অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে আবারো মুখ খুলতে শুরু করেছেন স্থানীয় জনগণ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *