চিত্রনায়ক অনন্ত জলিলের এজিআই গ্রুপের বিরুদ্ধে সরকারি রাস্তা ভাংচুরের অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলার ধল্লা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে ভূঁইয়াপাড়া আবেদ আলীর বাড়ি পর্যন্ত রাস্তার একটি অংশ সশস্ত্র আনসার বাহিনী ব্যবহার করে ভেঙে দিয়েছে চিত্রনায়ক এম এ জলিল অনন্তের মালিকানাধীন এজেআই গ্রুপের লোকজন। এ ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে।

শুক্রবার দুপুরে সরেজমিনে এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, যুগ যুগ ধরে রাস্তাটি ব্যবহার করে তারা স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ধল্লা ইউনিয়ন কাউন্সিল উচ্চ বিদ্যালয়সহ হাট-বাজারে নিয়মিত চলাচল করে আসছেন। বছর খানেক আগে গুরুত্বপূর্ণ এ রাস্তাটি সরকারিভাবে ইটের সলিং করা হয়। যাতায়াতের সুবিধার কারণে সে থেকে রাস্তাটির গুরুত্ব আরো বেড়ে যায়।

স্থানীয়রা অভিযোগ করে বলেন, গত বুধবার সকাল ১১টার দিকে অতর্কিতভাবে সশস্ত্র আনসার বাহিনীসহ দেড় শতাধিক লোকজন নিয়ে দীর্ঘদিনের পুরনো এ রাস্তাটির ইট তুলে ফেলা শুরু করে এজেআই গ্রুপ। এ সময় আমরা এলাকাবাসী বাধা দিলে আনসার সদস্যরা গুলি করার ভয় দেখায়। এ সময় এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে আতঙ্ক। তাৎক্ষণিক বিষয়টি স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানকে জানালে তিনি ঘটনাস্থলে এসে রাস্তার ইট উত্তোলন বন্ধ করে দেন।

এ বিষয়ে এজেআই গ্রুপের দায়িত্বশীল কর্মকর্তা আবু তাহেরের মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করে তাকে পাওয়া যায়নি। তবে প্রজেক্ট সুপারভাইজার দেলোয়ার হোসেন খান বলেন, ২০০৭ সালে বৃদ্ধাশ্রম করার জন্য এজেআই গ্রুপ এখানে ২০ বিঘা জমি ক্রয় করেন। রাস্তার একটি অংশের পুরোটাই ওই জমির ওপর হওয়ায় শ্রমিকরা কিছু ইট তুলে ফেলে। স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানের সাথে সমন্বয় করে রাস্তাটি যাতে সচল রাখা যায় সে ব্যবস্থা করা হবে বলেও তিনি জানান।

ধল্লা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম ভূঁইয়া বলেন, এ রাস্তাটি দিয়ে শত শত কোমলমতি শিক্ষার্থী ছাড়াও একাধিক গ্রামের লোকজন যাতায়াত করেন। রাস্তাটির গুরুত্ব বিবেচনা করে গত বছর এলজিএসপি প্রকল্পের আওতায় ইটের সলিং করা হয়। তখন এজেআই গ্রুপের পক্ষ থেকে কোনো বাধা দেয়া হয়নি। প্রশাসেন অনুমতি ছাড়া আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে এভাবে মফস্বল এলাকায় ঢুকে আতঙ্ক ছড়িয়ে রাস্তা ভেঙে সরকারের উন্নয়ন কাজ বাধাগ্রস্ত করা দুঃখজনক।

তিনি আরো জানান, স্থানীয় লোকজনের কাছে থেকে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে রাস্তার ইট উপড়ে ফেলা বন্ধ করে দেই। সেই সাথে বিষয়টি ইউএনও মহোদয়কেও জানাই।

সিংগাইর থানার ওসি আব্দুস সাত্তার মিয়া বলেন, সশস্ত্র আনসার সদস্যদের উপস্থিতির বিষয়টি আমার নলেজে নেই। তবে সরকারি রাস্তার ইট উপড়ে ফেলার বিষয়টি ইউএনও মহোদয়ের সাথে সমন্বয় করে খতিয়ে দেখা হবে।

এ ব্যাপারে সিংগাইর উপজেলা নির্বাহী অফিসার রুনা লায়লা জানান, বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *