গুলশানের নাভানা টাওয়ারে স্পা সেন্টারে পুলিশের অভিযান, ১৬ নারীসহ ১৯ জন আটক

নিজস্ব প্রতিবেদক: রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে অবৈধ ক্যাসিনোতে অভিযানের পর এবার স্পা সেন্টারে অভিযানে নেমেছে পুলিশ। গুলশানের তিনটি স্পা সেন্টারে অভিযান চালিয়ে ১৬ নারীসহ ১৯ জনকে আটক করা হয়েছে।

রোববার রাত ৯টার দিকে গুলশানের নাভানা টাওয়ারের ১৮, ১৯ ও ২০ তলায় অবস্থিত তিনটি স্পা সেন্টারে অভিযান শুরু করে গুলশান থানা পুলিশ।

স্পা সেন্টারগুলো হলো- লাইভ স্টাইল হেল্থ ক্লাব অ্যান্ড স্পা অ্যান্ড সেুলন, ম্যানগো স্পা ও রেসিডেন্স সেলুন-২ অ্যান্ড স্পা।

গুলশান জোনের ডিসি সুদীপ কুমার চক্রবর্তী সাংবাদিকদের বলেন, স্পা সেন্টারগুলোতে অসামাজিক কার্যকলাপ হয়- এমন তথ্যের ভিত্তিতে রাত ৯টার দিকে তিনটি ফ্লোরে অভিযান চালানো হয়। অভিযানে ১৬ জন নারী ও ৩ জন পুরুষসহ মোট ১৯ জনকে আটক করা হয়েছে।

রাজধানীতে স্পার নামে অশ্লীলতা, অসামাজিক কার্যকলাপের এ রকম আরও অনেক অভিযোগ রয়েছে। প্রতিষ্ঠানগুলো নিজেদের ফেসবুক পেজে স্পন্সর বিজ্ঞাপন দিয়ে তাদের প্রচারণা করে থাকে।

এর আগে এদিন দুপুরের পর থেকে মতিঝিলে ক্লাবপাড়ায় ৪টি ক্লাবে অভিযান চালায় পুলিশ। ক্লাবগুলো হচ্ছে- মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব, ভিক্টোরিয়া স্পোর্টিং ক্লাব, আরামবাগ ক্রীড়া সংঘ এবং দিলকুশা স্পোর্টিং ক্লাব। এসব ক্লাব থেকে ক্যাসিনো মেশিন, জুয়ার বোর্ড, বিদেশি মদ, সিসা বারের সরঞ্জাম, নগদ টাকা ছাড়াও জুয়ার নানা সরঞ্জাম উদ্ধার করেছে তারা। তবে কাউকে আটক বা গ্রেফতার করা যায়নি।

ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের সভাপতি ইসমাইল চৌধুরী সম্রাটের লোকজন ক্লাবগুলোর ক্যাসিনো ও জুয়ার বোর্ড নিয়ন্ত্রণ করতেন বলে জানা গেছে।

পুলিশের মতিঝিল বিভাগের উপ-কমিশনার আনোয়ার হোসেন জানান, যখনই তাদের কাছে তথ্য এসেছে, তখনই তারা অভিযান চালিয়েছেন। এর আগেও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারীবাহিনী অবৈধ জুয়ার বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়েছে বলে দাবি তার।

তিনি বলেন, ‘ক্লাবগুলোর অবৈধ খেলা বা জুয়ার অংশে অভিযান চালাচ্ছি আমরা। তবে মূল খেলা অর্থাৎ ফুটবল বা ক্রিকেটে যাতে এর প্রভাব না পড়ে সে বিষয়টিও মাথায় রাখছি। স্পোর্টিং ক্লাবগুলোতে কারা ক্যাসিনো বসিয়েছিল, তাও তদন্ত করা হচ্ছে।’

তিনি বলেন, আমরা প্রাথমিকভাবে জানতে পেরেছি এই স্পা সেন্টারগুলোতে আসা গ্রাহকদের সঙ্গে অনৈতিক কার্যকলাপে লিপ্ত হতেন আটক ১৬ নারী। আটক অপর তিনজন পুরুষ গ্রাহক।

ডিসি আরও বলেন, আটকদের থানায় পাঠানো হয়েছে। তাদেরকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে এবং এসব ব্যবসায়ের সঙ্গে কারা কারা জড়িত, কারা মালিকপক্ষ, কারা এটি পরিচালনা করত, সবকিছু পর্যবেক্ষণ করছি। এ বিষয়ে দ্রুত মামলা করা দায়ের করা হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *