গাজীপুর সিটি নির্বাচন: পুলিশ সুপার হারুনের প্রত্যাহার চায় বিএনপি

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ‘গাজীপুরের পুলিশ সুপার (এসপি) সবার কাছে পরিচিত ও পুরোপুরি আওয়ামী লীগার। তাঁর অতীত কর্মকাণ্ড সবার জানা আছে। আমরা আগেও এসপি হারুনকে এখন থেকে সরানোর দাবি জানিয়েছে। এখনো বলছি, তাঁকে না সরালে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব না।’

রোববার ২৪ জুন বিকেলে বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার গুলশানের রাজনৈতিক কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন মির্জা ফখরুল।

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘গাজীপুরের এসপিকে সরানোর জন্য ইসির কাছে অনুরোধ করলে তারা বলেন, তিনি তো অনেক দিন সেখানে আছেন, তাই তিনি অনেক কিছু জানেন। তিনি থাকলে নির্বাচন ভালো হবে। কিন্তু বাস্তবে তার উল্টো।’

বিএনপির মহাসচিব বলেন, ‘এই নির্বাচন কমিশন সম্পূর্ণ অযোগ্য। কারণ যারা একটা সিটি নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা করতে পারছে না তারা কী করে জাতীয় নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা করবেন। নির্বাচন কমিশনের (ইসি) কাছে যাই, অভিযোগ করা হয়, তারা এসব শুনেও শুনেন না।’ তিনি আরো বলেন, ‘বিএনপি প্রার্থীও ইসির কাছে অনেক অভিযোগ করেছেন। কিন্তু কিছুতেই কোনো কাজ হচ্ছে না।’

আগামী মঙ্গলবার ২৬ জুন অনুষ্ঠিতব্য গাজীপুর সিটি করপোরেশনের নির্বাচনের বিষয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘ন্যূনতম একটা ফেয়ার নির্বাচন হলে বিএনপি প্রার্থী বিশাল ব্যবধানে জয়ী হবেন। কারণ গাজীপুরে জনগণের প্রতিরোধ তৈরি হয়েছে। আমাদের নেতারা যখন গণসংযোগ করতে গেছেন তখন স্থানীয়রা স্বতঃস্ফূর্তভাবে বের হয়ে এসেছে।’

গাজীপুরের জনগণের উদ্দেশে বিএনপির এ নেতা বলেন, ‘ভোট আপনাদের সাংবিধানিক অধিকার। আপনারা সকাল থেকেই ভোটকেন্দ্রে যাবেন নিজেদের ভোটাধিকার প্রদান করবেন।’

এক প্রশ্নের জবাবে ফখরুল বলেন, ‘আমরা একটি গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দল। তাই গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে অব্যাহত রাখার জন্য নির্বাচনে অংশ নিচ্ছি। আর স্থানীয় সরকারের এসব নির্বাচনগুলো আমাদের আন্দোলনের অংশ। আর তারই অংশ হিসেবে আমরা এসব নির্বাচনে অংশ নিচ্ছি।’

আরেক প্রশ্নের জবাবে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘গাজীপুরের নির্বাচন সরকার ও ইসির জন্য এসিড টেস্ট। গাজীপুরের নির্বাচনের পর আমরা অন্য সিটির নির্বাচনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিব। কারণ গাজীপুরের নির্বাচনের ওপর অনেক কিছু নির্ভর করবে।’

গাজীপুর সিটি নির্বাচন প্রসঙ্গে ফখরুল বলেনন, ‘সব কেন্দ্রের জন্য আমাদের এজেন্ট প্রস্তুত আছে। কিন্তু এখন তাঁরা সেখানে থাকতে পারবেন কি না সেটি দেখার বিষয়। কারণ খুলনাতেও আমাদের প্রায় ৫০টির বেশি কেন্দ্রে আমাদের এজেন্টদের ঢুকতে দেওয়া হয়নি। এবার গাজীপুরে কী করবে সেটা দেখার অপেক্ষায় আছে দেশের জনগণ।’

এ সময় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ‘সরকার নিজেদের দলের লোক দিয়ে নির্বাচন করছে না। মূলত পুলিশ র‍্যাব, ও ডিবির লোকজন সরকারের পক্ষে নির্বাচন প্রচার ও পরিচালনার কাজ করছে।’

সংবাদ সম্মেলনে আরো উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খান, ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার, ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া ও আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, ভাইস চেয়ারম্যান ও সাংবাদিক নেতা শওকত মাহমুদ, সাংগঠনিক সম্পাদক ফজলুল হক মিলন, বিএনপির প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *