খোলা চিঠি

আমি ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণকারী একজন প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধার গর্বিত সন্তান। আমরা দুই ভাই এক বোন। তিনজনই জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে লেখাপড়া শেষ করেছি।

মুক্তিযোদ্ধার সন্তান হিসেবে বঙ্গবন্ধুর আদর্শে অনুপ্রানিত হয়ে আমি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগের রাজনীতিতে যুক্ত হই ২০০১ পরবর্তী বিএনপি সরকারের আমলে, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগের রাজনীতিতে তখন যুক্ত ছিলো হাতেগোনা ২০-২৫ জন।

তখন শুধুমাত্র ছাত্রলীগের ৩১ সদস্য কমিটির মধ্যে কয়েকজনের অনুপস্থিতিতে বাকীরা Active. এর মধ্যে পূর্ণাঙ্গ কমিটি হয় হয় হচ্ছে।

অনেক নেতারাই কমিটি জমা দিয়ে যাচ্ছে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক সোহেল – জনি ভাইদের। কর্মদক্ষতার দ্বারা দুই ভাই (সোহেল পারভেজ ভাই ও জনি ভাই) এর প্রস্তাবিত কমিটির মধ্যে দুজনের লিস্টেই আমার নামটা ছিল।

যাই হোক ১/১১ তে, ছাত্রদল কতৃক, সভাপতি সাধারন সম্পাদক, (সোহেল ভাই জনি ) ভাই, পুলক ভাই সহ সাম্য কে মারার পর, সাম্যকে মেরেছিল জনি ভাই এর মামলার বাদী হিসেবে, মামলা তুলে দেবার জন্য। সোহেল ভাই এর মামলার বাদী উনি নিজেই ছিলেন। কেন আমাকে বাদী করলো না বা আমাকে মামলা তুলে নেওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে।

সেই জন্য ঐ সময়ে অনার্স ফাইনাল পরীক্ষার সময় পরীক্ষার হল থেকে বের করে নিয়ে এসেছিলেন সমাজ বিজ্ঞান অনুষদ এর সরকার ও রাজনীতি বিভাগ এর রুম থেকে ছাত্রদল। পরবর্তীতে বাকি পরীক্ষা গুলো এনাম মেডিকেলে দিতে হলো ছাত্রদলের ক্যাম্পাসে না আসতে দেবার হুমকিতে।

বিরোধী রাজনৈতিক সময়টিতেই শুধু এনাম মেডিকেলে ছাত্রলীগ করার জন্য দৌড়াদৌড়ি করতে হতো বিএনপি সরকারের ছাত্রদলের নির্যাতনের কারনেই।

সেই সময় বিএনপির দায়ের করা শোকজ সহ মামলার ৭ আসামীর মধ্যে একমাত্র পদ বিহীন ছাত্রলীগ কর্মী হিসেবে আমার অবস্থান। পরবর্তীতে আওয়ামী সরকারের আমলে ছাত্রলীগের নতুন কমিটি হলে সেই মামলার ৭ জনের মধ্যে একজনও পদ পায়নি। এমনকি আমাকে নূন্যতম একটা সদস্য পদও দেয়া হলো না। পদ কারা পেলো, নিজেই বুঝলাম না।

পরবর্তীতে কষ্ট থেকে ছাত্রলীগের রাজনীতি থেকে নূন্যতম সদস্য পদটাও না পাবার কারনেই আমি বিদ্রোহী কমিটি দিলাম (হয়তো ভূল করেছি তবে শুধুমাত্র কষ্ট থেকে) যার সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক মুক্তিযোদ্ধার সন্তান। সভাপতি ছিলাম আমি অধম।

গ্রুপিং এর ভূলে, এভাবেই শেষ হলো আমার ছাত্রলীগের পদ না পাবার আজীবনের কষ্টের ছাত্রলীগের রাজনীতি।

এখন শুধুমাত্র দলের জন্যে, নিবেদিত আমার মতো ত্যাগী, ছাত্রলীগের সাবেক নেতা, আমাকে জানে এমন একজন অভিভাবক, “মনজুরুল আলম রাজীব” ভাই এর সাথে সম্পর্কটা আছে। আর জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে, আমার ছাত্রলীগের রাজনৈতিক হাতেখড়ি যার হাত ধরে, সেই নেতা “সোহেল পারভেজ” ভাই এর সাথে। তবে এই সম্পর্কে কোনো দেনা-পাওনা, কখনোই ছিলো না।

পরিশেষে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এর সহকারী শিক্ষক হিসেবে পরিবারের চাপে ইচ্ছার বিরুদ্ধে চাকরিটা শুরু করেছিলাম। হেফাজত আন্দোলনের সময়টিতে শিক্ষকদের অফিস কক্ষে, সরকারের সমালোচনার এক পর্যায়ে, সকল শিক্ষকের উপস্থিতিতে, বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে কটুক্তি করে বসে প্রধান শিক্ষিকা, সেখানে প্রধান শিক্ষক কর্তৃক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কে কটাক্ষ করার অভিযোগ দায়ের করলাম। পরপর দুই দুই বার তদন্ত হয়ে ও তার বিচার করতে পারি নাই। তাই সরকারি চাকরি টা ছেড়ে দিয়ে এসেছিলাম তবু ও বঙ্গবন্ধুর কটাক্ষকারীর সাথে আপোষ করি নাই।

সেখান থেকে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করি ডিইপিজেড এ একটি তৈরী পোশাক কারখানায় একটা চাকরি নিয়ে। অল্প সময়ের ব্যবধানে ১৫ হাজার টাকায় জয়েন করা চাকরিতে কর্মদক্ষতা দ্বারা ৪০ হাজার বেতন হলো।

৩৫ তম বিসিএস এর প্রিলিমিনারিতে ২,৪৭০০০ পরিক্ষার্থীর মধ্যে ২০,০০০ এ টিকে গেলাম ভোর ৫ টা থেকে রাত ১০/১১ টা অব্দি চাকরি করার মাঝেই টুকটাক পড়াশোনা করে। তাই রিটেন পাশের লক্ষ্য, ৬ মাস পড়াশোনার করার উদ্দেশ্যে, ভালো বেতনের চাকরিটা ছেড়ে দিলাম।

কারন এই সরকারের আমলে মুক্তিযোদ্ধার সন্তান হয়ে চাকরি না পাওয়াটা অপমানের ও।

রিজাইন দিয়ে ০৬ মাস ব্যাপক চেষ্টা করলাম। টিকলাম না কিন্তু আমি একই Preparation এ অগ্রনী ব্যাংকের সিনিয়র অফিসার হিসেবে রিটেনে টিকলাম। কিন্তু ভাইভাতে হলো না। এখন তো সময় শেষ।

এমতাবস্থায় আমার রাজনৈতিক সময় দেয়া স্থান জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগের সাবেক নেতা হিসেবে সেখানে প্রশাসনিক অফিসার হিসেবে একটা চাকরি নেওয়ার জন্য চেষ্টা করছি কিন্তু আমার তো আর কুমিল্লা চাঁদপুর নোয়াখালীর কোন নেতার লবিং নাই।

তাই ঠিক রাজনীতিতেও যেমন পদ–পদবী পেলাম না, একইভাবে পরিবারের একমাত্র উপার্জনকারী বীর মুক্তিযোদ্ধা পিতার গত ২০ শে সেপ্টেম্বর সরকারি চাকুরী থেকে অবসর নিয়েছে, এমতাবস্থায় ও রাজনৈতিক স্থান জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে চাকরির চেষ্টা করেও একটা চাকরি কেউ দিচ্ছে না, যেখানে বিরোধী দলের সাবেক ছাত্রলীগ নেতা হিসেবে সুযোগ পাওয়াটা উচিৎ ছিলো, কেননা সেই একই তকমায় অনেকের সুযোগ হতে দেখে হলেও।

এমতাবস্থায় মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, মমতাময়ী শেখ হাসিনা আপার কাছে আমার বিনীত অনুরোধ, একজন মুক্তিযোদ্ধার সন্তান হিসেবে আমাকে একটা চাকরি দিয়ে, একজন বীর মুক্তিযোদ্ধার পরিবারের দায়িত্ব নিয়ে, সম্মানিত করতেন, তাহলে চিরকৃতজ্ঞ থাকতাম। (DGFI /NSI রিপোর্ট দেখে নিতে পারেন)

“জয় বাংলা জয় বঙ্গবন্ধু” ।

মোহাম্মদ সফিউললা সুজন, ৩৩ তম ব্যাচ, সরকার ও রাজনীতি বিভাগ , জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়। (সাবেক ছাত্রলীগ কর্মী), মোবাইল: 01721239591

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *