ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তরে বাদশা-বদরুল চাঁদাবাজির এক ভয়ঙ্কর সিন্ডিকেট!

ডেস্ক রিপোর্ট : তারা আসলে কারা? কীইবা তাদেও পরিচয়? বাদশা-বদরুল সিন্ডিকেট হিসেবে তাদেও সবাই চেনে জানে। যারা দলবেধে দিনভর ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তরে দাপিয়ে বেড়ায়, ঘুরঘুর করে কর্মকর্তাদের রুমে রুমে। কাউকে হুমকি-ধমকি দেয়, কাউকে আবার তোয়াজ করে, কারো সাথে আবার গলায় গলায় পীরিত, কারো সঙ্গে সম্পর্ক শুধুই চাঁদাবাজির। নিজেরাই অধিদপ্তরের কর্মকর্তা ও বিভিন্ন ওষুধ প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানের নামে সত্য মিথ্যা মিলিয়ে লিখিত অভিযোগ তৈরী করে তা হাতে নিয়ে তথ্য যাচাই বাছাইয়ের নামে আতংক সৃষ্টি করে ভয়ভীতি দেখিয়ে সংশ্লিষ্টদের কাছে দাবী করে মোটা অঙ্কের টাকা। আবার কখনও কখনও অসাধু কর্মকর্তাকে সঙ্গী বানিয়ে দরখাস্ত তৈরী করে বিভিন্ন ওষুধ প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানের নামে। তারপর পত্র পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশের ভয় দেখিয়ে লক্ষ লক্ষ টাকার ধান্দাবাজি চালায়। এক্ষেত্রে ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক ইয়াহিয়া ও পরিচালক নূরুল ইসলাম এবং তৃতীয় শ্রেণীর কর্মচারী সাহাবুদ্দিন তাদের সার্বিকভাবে সহযোগিতা করে থাকেন। এ সিন্ডিকেটবাজির মাধ্যমে প্রতি মাসেই তারা লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। সিন্ডিকেটের অন্যতম প্রধান বদরুল নিজেকে ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের নেতা বলে দাবী করলেও তার সত্যতা পাওয়া যায়নি। খোঁজ নিয়ে জানাযায়, নড়াইলের পাটকল শ্রমিক আমিরুল ইসলামের ছেলে বদরুল মূলত চরমপন্থী দলের ক্যাডার ছিলেন। ওয়ান ইলেভেনের সময় ভ‚য়া মেজর পরিচয়ে প্রতারনাকালে যৌথ বাহিনীর হাতে আটক হন এবং তাকে উত্তম মধ্যম দেওয়া শেষে যশোর জেলার অভয়নগর থানায় সোপর্দ করা হয়। প্রতারনার ওই মামলা থেকে জামিনে মুক্তি পেয়েই তার প্রেমিকাকে বগলদাবা করে ঢাকার পথে পাড়ি জমায়। ঠাঁয় হয় গাজিপুরের বোর্ডবাজার এলাকায়। ওই সময় ফেরি করে ইউনানী-হার্বালের ওষুধ-মলম বিক্রেতা বাদশা‘র মাধ্যমে হকারীর কাজ জোটে তার। এক পর্যায়ে পত্রিকার হকারী থেকেই দিনে দিনে সাংবাদিক পরিচয়ে বেড়ে ওঠে তাদের প্রতারনার সা¤্রাজ্য। গত সাত বছর ধরে বাদশা-বদরুল ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তর ঘিরে অভিনব প্রতারনার ফাঁদ পেতেছে। ভ‚ঁইফোড় বিভিন্ন আন্ডারগ্রান্ড পত্রিকায় যা খুশি টাইপের খবরা খবর ছাপিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শন করে চাঁদাবাজি করাই তাদের কাজ। মিটফোর্ড হাসপাতাল সংলগ্ন মার্কেটে বাদশা-বদরুল সিন্ডিকেটের আরেকটি আখড়া গড়ে উঠেছে। সেখানকার ওষুধ বিক্রেতাদের কাছ থেকে মাসোহারা আদায়ের পাশাপাশি কেমিকেল বিক্রেতা ও গুদামগুলো থেকে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেয় তারা। শুদ্ধ উচ্চারণে বাংলা পাঠ করতে না পারার মূর্খতা নিয়েই সাবেক দুই হকারের সীমাহীন দৌরাত্ম চলছে সর্বত্র। তাদের কাছে ওষুধ প্রশাসন, ওষুধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান ও ফার্মেসীগুলো রীতিমত জিম্মি হয়ে আছে। বিভিন্ন ওষুধ কারখানার বিস্তারিত তথ্য চাওয়ার নামে তথ্য ফরমের মাধ্যমে শত শত আবেদন জমা দিয়ে কর্মকর্তাদের অযথাই ব্যস্ত রাখার ফন্দি আঁটেন তারা। আর তথ্য চাওয়ার বিষয় কর্মকর্তাদের মাধ্যমে জানতে পেরে ওষুধ কারখানার মালিকরা অজানা আশঙ্কায় আতঙ্কিত হয়ে পড়েন এবং চাহিদা মাফিক টাকাপয়সা গুজে দিয়ে নিজেরাই রেহাই পান। এও জানা যায় যে, বাদশা-বদরুল দুজনেই ইয়াবা সেবী। ওষুধ প্রশাসনের একাধিক কর্মকর্তা অভিযোগ করে জানান, পত্রিকায় উল্টাপাল্টা রিপোর্ট করে অথবা হয়রানির ভয়ভীতি দেখিয়ে চক্রটি নানা অনৈতিক ফায়দা লুটে চলেছে। বদরুল নিজেকে ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের নেতা পরিচয় দিয়ে থাকে। ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের নেতার ওষুধ প্রশাসনে সারাদিন কিসের কাজ তা বুঝতে পারিনা। ওষুধ বিষয়ক একটি রিপোর্টও তারা লেখেন না। তাহলে ধান্দাবজিই তাদের কাজ?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *