একদিকে চলে তিতাস গ্যাসের অবৈধ সংযোগ বিচ্ছিন্নকরন অভিযান অন্যদিকে চলে প্রভাবশালীদের পুনঃসংযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ তিতাস গ্যাস কতৃপক্ষের অবৈধ সংযোগ বিচ্ছিন্নকরন অভিযান অব্যাহত থাকলেও থেমে নেই সাভার উপজেলা এলাকায় অবৈধ সংযোগ নিয়ে ব্যবহারকারীর সংখ্যা। কারন হিসেবে স্থানীয়রা অভিযোগ করেন একদিকে চলে বিচ্ছিন্নকরন অভিযান পরবর্তীতেই দেয়া হয় অবৈধ গ্যাস সংযোগ। অবৈধ গ্রাহকদের বিরুদ্ধে তিতাসগ্যাস কতৃপক্ষ সংশ্লিষ্ট থানায় মামলা দায়ের করলেও অবৈধ সংযোগ প্রদানকারিরা প্রভাবশালী ও ক্ষমতাসীন দলের রাজনৈতিক নেতাকর্মী হওয়ায় তাদের বিরুদ্ধে কোন মামলা দায়ের করা হয়না বলেও স্থানীয়রা ও ভুক্তভোগিরা অভিযোগ করেন।

তিতাসের নিয়মিত অভিযানের অংশ হিসেবে শনিবার আশুলিয়া ইউনিয়নের দোসাইদ এলাকার বিভিন্ন বাসাবাড়িতে অবৈধভাবে দেয়া ১ হাজার সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়।

তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ অভিযান চালিয়ে এসব অবৈধ গ্যাস সংযোগের রাইজারগুলোও খুলে নেয়া হয়।

ভুক্তভোগীরা অবৈধ গ্যাস সংযোগ প্রদানকারিদের গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান। তারা বলেন, আমাদের কাছ থেকে সংযোগ প্রতি ৮০ হাজার থেকে একলক্ষ টাকা নেয় প্রদানকারিরা। কিন্তু মামলা আমাদের নামে হয়। তারা তখন গাঢাকা দিয়ে থাকে। আমরা মোটা অঙ্কের টাকাও দেই মামলায় আসামিও হই। তাদের কিছুই হয়না। টাকা ফেরত চাইলে নানা হয়রানির শিকার হতে হয়। তখন তারাই পুনরায় সংযোগ দিবো বলে আশ্বাস দেয়।

দোসাইদ, আউকপাড়া, বেলমা, চারাবাগ, খেজুর বাগানসহ আশপাশের এলাকায় কয়েক হাজার বাড়ীতে অবৈধ গ্যাস সংযোগ দিয়েছে রাজু নামক এক ব্যবসায়ী। ক্ষমতাসীন দলের বিভিন্ন নেতাকর্মীর নাম ভাঙ্গিয়ে প্রভাব খাটিয়ে এসব সংযোগ দিয়েছেন কয়েক বছর আগেই। অবৈধ সংযোগ দিয়ে মোটা অঙ্কের টাকা নেয়ার পরও রাজু সিন্ডিকেট প্রতিমাসে বিলও আদায় করেছে বলে স্থানীয়রা অভিযোগ করে। এ টাকার ভাগ প্রশাসন, তিতাসের অসাধু কর্মকর্তা সহ বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীদের ভাগ দেয়া হতো বলেও জানান তারা।

এ ব্যাপারে সাভার তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের ব্যবস্থাপক প্রকৌশলী আবু সাদাৎ মোহাম্মদ সায়েম বলেন, আশুলিয়ার সব অবৈধ গ্যাস লাইন পর্যায়ক্রমে বিচ্ছিন্ন করা হবে। তিনি আরও বলেন, সংযোগ যারা দিয়েছে,তাদের বিরুদ্ধে রাতে আশুলিয়া থানায় মামলা করা হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *