ঈদে ঘরমুখো মানুষদের স্বস্তিদায়ক যাত্রায় মহাসড়কে নানামুখী উদ্যেগ

সঞ্জীব সাহা : পরিবার-পরিজনের সাথে ঈদ উৎসবের আনন্দ ভাগাভাগি করতে প্রায় ৮০ লাখেরও বেশি মানুষ রাজধানী ছাড়েন। সরকারি, বেসরকারি প্রতিষ্ঠানসহ শিল্প কারখানা ছুটি ঘোষনা হলে একযোগে মানুষ ঢাকা ছাড়ায় সড়কপথে গনপরিবহনে ব্যাপক চাপ বেড়ে যায়। গনপরিবহনের চাপে সৃষ্টি হয় দীর্ঘ যানজট। একারনে সৃষ্ট যানজটের কারনে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বাসে বসে থেকে যাত্রীদের পোহাতে হয় চরম দূর্ভোগ ।

এবারের ঈদের আগেই ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে (দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চল) খুলে দেওয়া হয়েছে দ্বিতীয় মেঘনা, দ্বিতীয় গোমতী ও দ্বিতীয় কাঁচপুর সেতু। এতে ঢাকা থেকে এখন কুমিল্লাতে মাত্র দেড় ঘণ্টাতেই যাওয়া যাচ্ছে। আগে দীর্ঘ যানজটের কারণে এ পথ পাড়ি দিতে কখনো কখনো ৮-১০ ঘণ্টাও লেগে যেত।

এবার ঈদের আগে উত্তরবঙ্গের ২৩ জেলায় যাওয়ার জয়দেবপুর-চন্দ্রা-টাঙ্গাইল-এলেঙ্গা মহাসড়কে কোনাবাড়ী ও চন্দ্রা ফ্লাইওভার খুলে দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া কালিয়াকৈর, দেওহাটা, মির্জাপুর ও ঘারিন্দা আন্ডারপাস এবং কড্ডা-১ সেতু ও বাইপাইল সেতুর উদ্বোধন করা হয়েছে। এরপর এ মহাসড়কের চিরচেনা চিত্র পাল্টে গেছে।

বৃহত্তর ময়মনসিংহ ও উত্তরবঙ্গগামী যাত্রীদের দুর্বিষহ ভোগান্তির কারণ হতে পারে টঙ্গীবাজার থেকে চান্দনা চৌরাস্তা পর্যন্ত ১৩ কিলোমিটার মহাসড়ক।

ঢাকা থেকে পাটুরিয়া-দৌলতপুর ঘাট পার হয়ে দক্ষিণবঙ্গের পথে যানবাহনের চাপে ফেরিতে যাত্রী পারাপারে দীর্ঘ সময় লেগে যাওয়ায় গত কয়েক বছরের মতো এবারও বাসের শিডিউল বিপর্যয়ের শঙ্কা রয়েছে। এক্ষেত্রে গন্তব্যে পৌঁছতে ৮-১০ ঘণ্টা বেশি সময় লেগে যেতে পারে।

এবারে ঈদযাত্রা শুরু হচ্ছে আগামী ৩০ মে থেকে। সম্ভাব্য ৫ জুন ঈদুল ফিতর ধরে নিয়ে বাসে বাড়ি যাওয়ার আগাম টিকিট কিনেছেন যাত্রীরা। সাপ্তাহিক ছুটি এবং শবেকদর ও ঈদের বন্ধ মিলিয়ে ছুটি দীর্ঘ হওয়ায় অনেকে আগেভাগেই বাড়ি যাচ্ছেন। ২ তারিখ শবেকদরের ছুটি। এরপর একদিন (৩ জুন) অফিস খোলা। ওই দিন তৈরি পোশাক কারখানায়ও ছুটি হচ্ছে। ফলে যানবাহনে মূল চাপটা শুরু হবে ৩ তারিখেই।

ঘরমুখো মানুষের স্বস্তিদায়ক ঈদযাত্রায় ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের ভোগড়া বাইপাস থেকে চন্দ্রা পর্যন্ত সাসেক প্রকল্প-১ এর অধীন কোনাবাড়ী ও চন্দ্রা এলাকায় দুটি নবনির্মিত ফ্লাইওভার দিয়ে যান চলাচল শুরু হয়েছে। এতে গাজীপুর মহানগরীর কোনাবাড়ী থেকে কালিয়াকৈর উপজেলার চন্দ্রা পর্যন্ত নিত্যদিনের যানজটের কবল থেকে রক্ষা পেয়েছেন যাত্রীরা। তবে এখনো যানজটের শঙ্কা কাটেনি ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের টঙ্গীবাজার বাসস্ট্যান্ড থেকে চান্দনা চৌরাস্তা পর্যন্ত। এই ১৩ কিলোমিটারের গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়কটিতে বাস র‌্যাপিড ট্রানজিট (বিআরটি) প্রকল্পের কাজ চলেছে।

মহাসড়কের এই অংশটিতে কোথাও ফ্লাইওভার কোথাও আবার ড্রেননির্মাণ কাজ চলছে। কচ্ছপ গতির এ প্রকল্পের কাজের ফলে মহাসড়কটির বিভিন্ন স্থানে খানাখন্দ দেখা দিয়েছে। এ ছাড়া সড়কের পিচ ফুলেফেঁপে উঠেছে বিভিন্ন স্থানে। মহাসড়কও সঙ্কুচিত হয়ে পড়েছে। এতে স্বাভাবিকভাবে যান চলাচলে বিঘ্ন ঘটছে।

বৃহত্তর ময়মনসিংহ ছাড়াও উত্তরবঙ্গের ২৩ জেলার ১১৮টি রুটের পরিবহন চলাচল করে গাজীপুরের ওপর দিয়ে। এ কারণে ঢাকা-ময়মনসিংহ ও ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে প্রতি বছর ঈদযাত্রায় ঘরমুখো মানুষের দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়ায় গাজীপুরের যানজট। তবে পরিবহন জট নিরসনে ‘ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের কোনাবাড়ী ও চন্দ্রায় দুটি ফ্লাইওভার নির্মিত হয়েছে। এতে যাত্রী দুর্ভোগ কমেছে। অথচ ঢাকা থেকে গাজীপুরের টঙ্গী হয়ে ভোগড়া বাইপাস পর্যন্ত প্রায় ১২ কিলোমিটার পথ। এই পথ অতিক্রম করেই কোনাবাড়ী ও চন্দ্রা। ফলে এই ১২ কিলোমিটার অংশে যানজটের সৃষ্টি হলে এর প্রভাব পড়তে পারে ঢাকার মহাখালী পর্যন্ত- এমন আশঙ্কা যাত্রী ও চালকদের।’

এদিকে ঢাকা বিমানবন্দর থেকে গাজীপুর পর্যন্ত ২০ দশমিক এক কিলোমিটারের বিআরটি প্রকল্পের কাজ চলছে। তবে টঙ্গী থেকে গাজীপুর চান্দনা চৌরাস্তা পর্যন্ত বিভিন্ন অংশে সড়কে নির্মাণসামগ্রী ফেলে রাখা হয়েছে। চান্দনা চৌরাস্তা থেকে টঙ্গী পর্যন্ত বিভিন্ন এলাকায় ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের পাশে কাঁচা ড্রেন নির্মিত হয়েছে। কোথাও আবার ড্রেন নির্মাণ কাজের জন্য ড্রেনের পানি মহাসড়ক ‘ছুঁই ছুঁই করছে।’ এমনিতেই মহাসড়কের দুপাশে জমে থাকা পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা নেই। এর ওপর ঈদের ছুটিতে টানা বর্ষণ হলে মহাসড়কে জলাবদ্ধতা দেখা দিতে পারে। এ ছাড়া এ প্রকল্পে ব্যবহৃত গাড়ি পার্কিং করে রাখা হচ্ছে টঙ্গী থেকে জয়দেবপুরের শিববাড়ী পর্যন্ত বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ট্রাফিক পয়েন্টে।

ঈদে ঘরমুখো মানুষের চলাচল নির্বিঘ্ন করতে এবং মহাসড়ক যানজটমুক্ত রাখতে পুলিশের পক্ষ থেকেও নেওয়া হয়েছে নানা পদক্ষেপ।

মহাসড়ক যানজটমুক্ত রাখতে এবং যাত্রীদের নিরাপত্তার বিষয়টি মাথায় রেখে এবার ঈদে সাত শতাধিক পুলিশ মহাসড়কে নিয়োজিত থাকবে। পুলিশের ৪০টি ভ্রাম্যমাণ দল সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *