আশুলিয়ায় তাজরীন ফ্যাশন ট্র্যাজেডীর সপ্তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীতে নিহত স্মরণে শ্রদ্ধা নিবেদন

নিজস্ব প্রতিবেদক: সাভারের আশুলিয়ায় তাজরীন ফ্যাশনসে অগ্নিকাণ্ডের সপ্তম বার্ষিকী ছিল রোববার। দিনটিতে কারখানার সামনে ফুল দিয়ে নিহত শ্রমিকদের শ্রদ্ধা জানিয়েছেন তাঁদের স্বজন, আহত শ্রমিক ও বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠন। এ সময় ক্ষতিগ্রস্ত শ্রমিকদের ক্ষতিপূরণ, পুনর্বাসনসহ হত্যাকাণ্ডে জড়িত সবার বিচারের দাবি জানানো হয়।

২০১২ সালের ২৪ নভেম্বর তাজরীন ফ্যাশনসে আগুন লেগে ১১৩ জন শ্রমিক নিহত হন। আহত হন অন্তত ২০০ শ্রমিক। নিহত শ্রমিকদের অনেকেরই পরিচয় নিশ্চিত হতে না পেরে তাঁদের লাশ অজ্ঞাতনামা হিসেবে জুরাইন কবরস্থানে দাফন করা হয়। পরবর্তী সময়ে ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে অনেকের লাশ শনাক্ত করে তাঁদের স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

সকাল থেকেই মর্মান্তিক সেই ঘটনায় নিহত শ্রমিকদের স্বজন, আহত ও সাধারণ শ্রমিকেরা নিশ্চিন্তপুরে তাজরীন ফ্যাশনসের সামনে জড়ো হতে থাকেন। পরে তাঁরা বিভিন্ন সংগঠনের ব্যানারে ফুল দিয়ে নিহত শ্রমিকদের শ্রদ্ধা জানান।

শোক র‌্যালি ও শ্রদ্ধা জানানোর পর সমাবেশে বাংলাদেশ গার্মেন্টস শ্রমিক সংহতির সভা প্রধান তাসলিমা আখতার বলেন, তাজরীন ফ্যাশনসে আগুন লেগে ১১৩ জন শ্রমিক জীবন্ত দগ্ধ হয়ে মারা যান। রানা প্লাজা ধসে মারা যান সহস্রাধিক শ্রমিক। আহত হন আরও কয়েক শ শ্রমিক। পোশাক খাতের শ্রমিকদের এই মর্মান্তিক পরিণতি নিছক কোনো দুর্ঘটনা নয়; এসব কাঠামোগত হত্যাকাণ্ড।

গার্মেন্টস শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের সাধারণ সম্পাদক জলি তালুকদার বলেন, তাজরীন হত্যাকাণ্ডের তিন বছর পর ২০১৫ সালের ১ অক্টোবর আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। এরপর গত চার বছরের বেশি সময়ে আদালতে ৩৫টি শুনানির তারিখ নির্ধারিত হলেও রাষ্ট্রপক্ষ ওই সময়ে মাত্র ছয় দিন সাক্ষী হাজির করতে পেরেছে। ফলে, ১০৪ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ কবে শেষ হবে, তা আজ বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বাংলাদেশ পোশাক শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন ফেডারেশন, গার্মেন্টস শ্রমিক ঐক্য ফোরাম, বাংলাদেশ জাতীয় গার্মেন্টস শ্রমিক ফেডারেশন, বাংলাদেশ গার্মেন্টস অ্যান্ড শিল্প শ্রমিক ফেডারেশনসহ বিভিন্ন সংগঠনের পক্ষ থেকে নিহত শ্রমিকদের শ্রদ্ধা জানানো হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *