আশুলিয়ায় জমি দখলেই টাকা

সাভারবার্তা ডেস্ক রিপোর্টঃ স্কুল-কলেজ থেকে শুরু করে সরকারি, বেসরকারি, অর্পিত সম্পত্তি, এমনকি মানুষের বসত বাড়ি, খেলার মাঠ, কমিউনিটি সেন্টারও বাদ নেই। সব জমি খান তিনি। তার আগ্রাসনে এলাকার মানুষ এখন ভীতসন্ত্রস্ত। ভিটেবাড়ি থেকে উচ্ছেদ হওয়া বহু মানুষ এখন মানবেতর জীবনযাপন করছেন।

ছাত্র-ছাত্রী অভিভাবকরা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জমি উদ্ধারে আন্দোলন করেছেন। কিন্তু তার আগ্রাসন যেন শেষ হওয়ার নয়। সরকারি দলের সাইনবোর্ড ব্যবহার করে বেদখল করা জমিতে নিজের নামে সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে দিচ্ছেন তিনি।

মানুষের জায়গা-জমি লুটে নেওয়া এই ব্যক্তির নাম মো. সাহাব উদ্দিন মাতবর। তিনি আশুলিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান। এলাকাবাসী জানায়, সাহাব উদ্দিন এক সময় বিএনপি করতেন। জীবনে কখনো ছাত্রলীগ, যুবলীগ কিংবা আওয়ামী লীগের সাধারণ সদস্যও ছিলেন না। যখন যে দল ক্ষমতায় ছিল-সে দলের নেতা পরিচয় দিয়েছেন।

প্রভাব খাটিয়ে ও বাহিনী লেলিয়ে দিয়ে দখল করেছেন জমি-জমা। সেই ব্যক্তি চেয়ারম্যান হওয়ার পর জমি-জমা বেদখলের পাশাপাশি লোপাট করছেন সরকারি অর্থ। কাজ না করেই প্রকল্পের টাকা লুটে নিয়েছেন সঙ্গী-সাথীদের নিয়ে। জানা গেছে, আশুলিয়ার বাসাইদ মৌজায় (এসএ দাগ নম্বর- ১৪৪, আরএস দাগ নম্বর ৬৭২, ৬৭৩ ভিপি কেস নম্বর ১৬৭/৭৪) ১২৮ শতাংশ সরকারি জমি সাহাব উদ্দিন মাতবর দখল করে নেয়। তিনি জোরপূর্বক দখল করে নিজের নামে সাইনবোর্ড লাগিয়েছে।

জোরপূর্বক সরকারি জমি দখল করার জন্য আশুলিয়া রাজস্ব সার্কেলের সহকারী কমিশনার (ভূমি) তাকে কারণ দর্শানোর নোটিসও দেয়। সূত্র জানায়, গৌরীপুর মৌজায় সরকারি ২ একর ৭৮ শতাংশ (খতিয়ান ১০৭, ১৬৯, দাগ নম্বর এসএ ৬৯, ৭০, ৭১, আরএস ৭২১ ও ৭২২, ভিপি কেস নম্বর ৩৩/৮২) সম্পত্তি আশুলিয়ার চানগাঁও কমিউনিটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নামে এককালীন লিজ প্রদান করা হয়। সেই সম্পত্তি সাহাব উদ্দিন মাতবর দখল করে ড্যাফোডিল বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে হস্তান্তর করেন। এ ছাড়া দোসাইদ মৌজার (খতিয়ান নম্বর ৭৯, ৭৮, দাগ নম্বর ১৭১, ১৭৮, ১৭৯, ১১০) সরকারি ৪ একর ৭২ শতাংশ জমি দোসাইদ একে হাই স্কুলের প্রধান শিক্ষকের নামে লিজ নেওয়া হয়। সাহাব উদ্দিন মাতবর এই স্কুলের সভাপতি। সভাপতি স্কুলের এই ৪ একর ৭২ শতাংশ জমি দখল করে আছেন।

ক্ষমতার অপব্যবহার ও সরকারি টাকার অপব্যবহার : ভূমি হস্তান্তর কর ১ শতাংশ সরকারি আয় হতে গত ১ এপ্রিল ৪১ লাখ ৫০ হাজার টাকার মোট ২১টি প্রকল্পের নামে দেওয়া হয়। বিধিগতভাবে এটি জনসংখ্যার ভিত্তিতে ইউনিয়ন পরিষদের ৯টি ওয়ার্ডে সমানভাবে ভাগ করার কথা। দেখা যায়, ২১টি উন্নয়ন প্রকল্পের মধ্যে ৮টি প্রকল্প যার টাকার পরিমাণ ১৬ লাখ শুধু ৮ নম্বর ওয়ার্ডে রুহুল আমিন ম ল মেম্বারের নামে বরাদ্দ দেওয়া হয়। ৪টি প্রকল্প যার মূল্য ৮ লাখ টাকা ৪ নম্বর ওয়ার্ড মেম্বার হোসেন আলীর নামে বরাদ্দ দেন। যেখানে দুটি ওয়ার্ডে ২৪ লাখ টাকা দেওয়া হয়, সেখানে মাত্র ১৬ লাখ টাকা বাকি ৭টি ওয়ার্ড মেম্বারের নামে বরাদ্দ দেন। উল্লেখ্য যে, ২১টি প্রকল্পের একটিতেও কাজ করা হয়নি। ৪১ লাখ টাকা চেয়ারম্যান সাহাব উদ্দিন মাতবর তার অনুসারী ইউনিয়ন মেম্বারদের নিয়ে লোপাট করেন। সূত্র জানায়, গত ৯ এপ্রিল ৪১ লাখ ৫০ হাজার টাকার আরও ২১টি প্রকল্প গ্রহণ করেন চেয়ারম্যান সাহাব উদ্দিন। সেখানেও তিনি ৮ নম্বর ওয়ার্ড মেম্বার মো. রুহুল আমিনের নামে শুধু ৮ নম্বর ওয়ার্ডের জন্য ১৬ লাখ টাকার ৮টি প্রকল্প বরাদ্দ দেন এবং ৪ নম্বর ওয়ার্ড মেম্বার মো. হোসেন আলীকে ৮ লাখ টাকার ৪টি প্রকল্প দেন। এ মাসেও শুধু ৮ ও ৪ নম্বর ওয়ার্ডে ১২টি প্রকল্প মূল্য ২৪ লাখ টাকা দিয়েছেন। বাকি ৯টি প্রকল্প যার মূল্য ১৬ লাখ ৫০ হাজার টাকা বাকি ৭টি ওয়ার্ডে বরাদ্দ দেন। এই মাসেও কোনো প্রকল্পের কাজ হয়নি। চেয়ারম্যান সব টাকা আত্মসাৎ করে ফেলেন। সূত্র জানায়, গত ৩১ মার্চ একইভাবে ৫২ লাখ টাকার মোট ২৬টি প্রকল্প গ্রহণ করেন। যার ১১টি প্রকল্প মোট ২২ লাখ টাকা ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য রুহুল আমিন ম লের নামে বরাদ্দ এবং ৬টি প্রকল্প ৪ নম্বর ওয়ার্ডের মেম্বার মো. হোসেন আলীর নামে ১২ লাখ টাকা বরাদ্দ দেন। এই মাসেও দেখা যায়, শুধু ৮ ও ৪ নম্বর ওয়ার্ডের জন্য ৩৪ লাখ টাকা, বাকি মাত্র ১৮ লাখ টাকা ৭টি ওয়ার্ডের জন্য বরাদ্দ দেন। আগের প্রকল্পের মতো এই মাসেও কোনো কাজ না করে চেয়ারম্যান তার অনুগত মেম্বারদের নিয়ে পুরো ৫২ লাখ টাকা আত্মসাৎ করেন। এলাকাবাসী জানান, তিনি স্থানীয় পূর্ব সদরপুর মৌজার এক বিঘা জমিসহ পাড়া গাঁওয়ের দেলোয়ারের জমি, খেজুর বাগানের খাসজমি, আশুলিয়া টঙ্গাবাড়ীর টেপা বেপারীর বাড়ি ও জমি, নিশ্চিন্তপুরের হিন্দুদের কয়েক বিঘা জমি, চানগাঁওয়ে খেলার মাঠ জবরদখল, আউকপাড়ার এসএ ৭ দাগের খাস পুকুরের দখল এবং সেখানে বসবাসরত ৩৫ ছিন্নমূল পরিবার উচ্ছেদ করে দখলে নিয়েছেন। এর অনেক জমি বিক্রি করে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন সাহাব উদ্দিন মাতবর।

@ সূত্রঃ দৈনিক বাংলাদেশ প্রতিদিন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *