আশুলিয়ায় ৯৯০ পিস ইয়াবাসহ পুলিশ সদস্য আটক

নিজস্ব প্রতিবেদক: আশুলিয়ায় প্রায় এক হাজার পিস ইয়াবাসহ ক্রিমিনাল ইনভেস্টিগেশন ডিপার্টমেন্টে (সিআইডি) কর্মরত এক পুলিশ সদস্যকে আটক করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ঢাকা জেলা উত্তর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। এ সময় তার এক সহযোগীকেও আটক করা হয়।

বৃহস্পতিবার রাতে আশুলিয়ার চাঁনগাও থেকে ৯৯০ পিস ইয়াবাসহ তাইজুদ্দীন (কং-১০৯) নামের ওই সিআইডি পুলিশ কনস্টেবলকে আটক করা হয়। ইয়াবা ব্যবসার সঙ্গে জড়িত তাঁর সহযোগীর নাম মফিজ।

ঢাকা জেলা উত্তর গোয়েন্দা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল বাশার বলেন, ‘বৃহস্পতিবার রাতে মাদক ব্যবসায়ীদের হাতে ইয়াবার চালান তুলে দিতে সাভারে যান তাইজুদ্দীন। সে সময় গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে একটি অটোরিকশা থেকে তাকে আটক করা হয়। আমরা প্রাথমিকভাবে তাকে মাদক ব্যবসায়ী মনে করলেও পরে তিনি নিজেকে সিআইডি পুলিশের সদস্য বলে পরিচয় দেন।‘

‘পরে তার পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার জন্য সিআইডি ঢাকা উত্তরা জোনের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) জহির উদ্দিনকে বিষয়টি জানানো হয়। তখন তিনি আটক তাইজুউদ্দীনকে (২৯) সিআইডির কনস্টেবল হিসেবে শনাক্ত করেন,’ জানান ঢাকা জেলা উত্তর গোয়েন্দা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবুল বাশার। পরবর্তী সময়ে ঘটনাস্থলে নজরদারি করে তার সহযোগী মফিজকেও আটক করা হয়।

এদিকে দীর্ঘদিন ধরেই তাইজুদ্দীন পুলিশী পেশার অন্তরালে ইয়াবার মতো মাদক ব্যবসায় যুক্ত ছিলেন বলে জানায় গোয়েন্দা বিভাগ। এ ঘটনায় ডিবি উত্তর ঢাকা জেলার উপ-পরিদর্শক (এসআই) গণি মিয়া বাদী হয়ে আশুলিয়া থানায় তার নামে একটি মামলা করেছেন।

এদিকে তাইজুদ্দীনের মোবাইল ফোন জব্দ করে কললিস্ট খতিয়ে দেখার মধ্যদিয়ে ইয়াবার উৎস খুঁজে বের করার চেষ্টা চলছে বলে জানান ডিটেকটিভ ব্রাঞ্চের (ডিবি) ওসি।

মাদকের বিরুদ্ধে প্রশাসনের কঠোর অবস্থান তুলে ধরে জেলা পুলিশ সুপার শাহ মিজান শাফিউর রহমান বলেন, ‘মাদকের বিষয়ে আমাদের নীতি জিরো টলারেন্স। মাদকের সঙ্গে যে জড়িত থাকবে সে যেই হোক না কেন, কোনো ছাড় নেই। আজকের ঘটনা তার বড় প্রমাণ।’

‘মাদক ব্যবসায়ী সমাজ ও দেশের শত্রু। পোশাকি পরিচয় পুলিশ হলেও আইনের চোখে সে অপরাধী। এ ক্ষেত্রে কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করার বিষয়ে বাংলাদেশ পুলিশ দৃঢ়প্রতিজ্ঞ,’ জানান ঢাকা জেলা পুলিশ সুপার শাহ মিজান শাফিউর রহমান।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *