আনারস এবং দুধ খেলে নিশ্চিত মৃত্যু!

কোনো বৈজ্ঞানিক তত্ত্ব দ্বারাই প্রমান করা সম্ভব নয় যে আনারস এবং দুধের মিশ্রণ মানুষের অসুস্থ্যতা অথবা মৃত্যুর কারণ ।

বহুকাল ধরে একটা ধারনা প্রচলিত আছে যে আনারস এবং দুধ একসাথে খাওয়া মানে নিশ্চিত মৃত্যু। আসলে সত্যি কি তাই? আনারস আর দুধের মিশ্রণে কি সত্যি বিষক্রিয়ার সৃষ্টির হয়ে থাকে?

সমগ্র বিশ্বের গবেষকরা এর প্রমাণ দিয়েছেন যে, এটা শুধুমাত্র একটা গুজব মাত্র। মানুষ এখনো সেই পুরোনো প্রথায় বিশ্বাসী। এজন্য তারা ভুল ধারনার বসে এখনো বশীভুতো। বাস্তব অর্থে, আনারস হচ্ছে টক জাতীয় ফল। দুধের মধ্যে যদি কোনো টকজাতীয় কিছু ফেলা হয় তবে দুধ ফেটে যায় বা ছানায় পরিনত হয়, এটা হয়তো অনেকেই জানেন। তাই আনারসের ক্ষেত্রে তার বিকল্প কখনো হবে না। ফেটে যাওয়া দুধ খেলে পেটে গ্যাস্টিকের সমস্যা, বদহজম, আপ্সেট স্টমাক বা এই জাতীয় সমস্যার সম্মুখিন হতে হয়। তার বেশি কিছু নয়। ছানার তৈরী অনেক খাবার তো সকলে খেয়েই থাকে তাই বলে কি সেগুলো বিষাক্ত?

আনারসে উপস্থিত সাইট্রিক অ্যাসিড দুধকে জমাট বাধতে সহায়তা করে যা দুধকে দইয়ে রুপান্তরিত করে। আনারসের বিকল্প লেবুতেও প্রচুর পরিমানে সাইট্রিক অ্যাসিড বিদ্যমান।
আনারস এবং দুধ খাওয়ার পর যদি আপনার পেটে কোনোরকম ক্রিয়ার বা দইয়ের সৃষ্টি হয় তবু আপনি অসুস্থ হবেন না। কারণ, কারণ মানুষের পরিপাকতন্ত্রে যে হাইড্রোক্লোরিক অ্যাসিড থাকে তা যেকোনো দইকে অনায়াসে হজম করতে পারে। এমন কাউকে হয়তো খুঁজে পাওয়া যাবে না যে দই খেয়ে মারা গেছে।

সাইট্রিক এসিডের পাশাপাশি আনারসে ব্রোমেলাইন নামক একধরণের এনজাইম থাকে যেটা প্রোটিনকে ভাঙতে সহায়তা করে । খুবই সচেতনতার সাথে দেখবেন সংবেদনশীল জিহ্বায় আনারস খেলে একটু পুড়ে যায় (হালকা ব্যাথা অনুভব হয়)। এটা হওয়ার মূল কারণ ব্রোমেলাইন এনজাইমের। ব্রোমেলাইন এনজাইম পাকস্থলীতে খাদ্যের ভাঙ্গনকে দ্রুততর করে এবং হজমে স্বাচ্ছন্দ আনে ।

বিশেষ দ্রষ্টব্য: আনারস এবং দুধ একসাথে খেলে মানুষ মারা যায় না। বরং, দুটো একসাথে খেলে আপনি অনন্য এক প্রশান্তি অনুভব করবেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *